১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: চলে আসায় বেঁচে যান নূর আলম, স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন নিহত

সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে একই পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: চলে আসায় বেঁচে যান নূর আলম, স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন নিহত

নূর আলম, তার স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 10:44 PM

Updated : 17 Oct 2026, 10:44 PM

কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন নূর আলম। তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছিলেন। তবে একদিন আগে কর্মক্ষেত্রে চলে আসায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

নূর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন।

তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুনে তিনতলা রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যায়। এতে একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে; দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ১০টি লাশ পাওয়া গেছে। তবে লাশগুলো ভয়ানক রকমভাবে পুড়ে অঙ্গার গেছে। চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

নূর আলমের পরিবারের স্বজনরা বলছেন, তাদের পরিবারের ছয়জন হয়ত ওই ১০ মধ্যে আছেন। ঘটনার পর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

তারা হলেন- ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, তার শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন, নূর আলমের স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহমেদ এবং পরিবারের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাফিস তেহামি জেরিফ।

শনিবার বিকালে নূর আলম মোবাইল ফোনে বলেন, বুধবার স্ত্রী ফারিহা কবির, সাত বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।

শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী, সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালক মারা যাওয়ার খবর পান তিনি। খবর পেয়েই নূর আলম ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

নুর আলম বলেন, “আজ তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”

নূর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ (৭) চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুরনো খবর:

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত বেড়ে ১০, ‘ছয়জনই এক পরিবারের’
১০টা মিনিট পেলে স্ত্রীও নামতে পারতেন: কক্সবাজারে আগুনে আহত আশিকুল
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ
সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা পরিবারটির, তার আগে আগুনে প্রাণ গেল ছয়জনের
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: রিসোর্টের একজন হেফাজতে