কালিহাতীতে স্কুলছাত্রীকে ‘তুলে নিয়ে’ ধর্ষণের অভিযোগ

কালিহাতীর পাইকড়া ইউনিয়নে ২ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Nov 2022, 12:37 PM
Updated : 25 Nov 2022, 12:37 PM

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে ‘তুলে নিয়ে’ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ১৩ দিন পর মামলা হয়; এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নে গত ২ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে বলে মেয়েটির মা মামলায় অভিযোগ করেন। 

অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্রী সাংবাদিকদের জানান, ২ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে ৮টায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বাড়ির পাশে রাস্তায় হাঁটতে যান। এ সময় বাড়ি সামনে কাঁচা রাস্তার পাশ থেকে ছাতিহাটি চকপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাসিব (২৫) ও আয়নালের ছেলে রিপনসহ অজ্ঞাত আরও তিনজন তাকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে অন্যান্যদের সহযোগিতায় হাসিব তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। 

মেয়েটির অভিযোগ, ওইদিনই রাত ৩টার দিকে তারা তাকে তার বাড়ির পাশে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তার চিৎকারে তার মা-বাবা এগিয়ে এলে বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে ও আমার মা-বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। 

মামলার বাদী এবং মেয়েটির মা বলেন, ঘটনার পরদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে জানান। পরে কালিহাতী থানায় ছাতিহাটি চকপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাসিব, আয়নালের ছেলে রিপন, মুনায়েম হোসেনের ছেলে আয়নাল ও নুরু মিয়ার ছেলে ফারুকসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে ১৫ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দেন। 

অভিযোগ পেয়ে কালিহাতী থানার এসআই আলামিন এলাকায় তদন্তে এসে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের হুমকি দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।  

তিনি বলেন, পরে চেয়ারম্যান তাকে মহিলা ইউপি সদস্য মলিনা বেগমের বাড়ি ডেকে নিয়ে ছেলেপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আপসনামায় জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেন।

মেয়েটির মা আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে ওসিকে জানালে তিনি মামলা নিতে গড়িমসি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বিভিন্ন মহলের চাপে ঘটনার ১৩ দিন পর গত ১৫ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলামিনকে পরিবর্তন করে এসআই কামরুলকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেন। তারপর মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। মেয়ে অসুস্থ বলে পুলিশ ৭ দিন পর মেডিকেল করার জন্য আসতে বলে।  

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিযোগ করে মেয়েটির মা বলেন, “আসামিদের লোকজন মামলা তুলে নিতে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছে।” 

বিষয়টি ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে আপস করার চেষ্টা হয়েছে জানিয়ে পাইকড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, “জরিমানার টাকা ১০ তারিখে দেওয়ার কথা থাকলেও জানতে পারি তারা থানায় মামলা করেছেন। এজন্য টাকাগুলো আর দেওয়া হয়নি। পরে আমি বিষয়টি ওসি এবং এসআই আলামিনকে জানাই।”
ধর্ষনের বিষয় এলাকায় জরিমানা করে মীমাংসা করা যায় কিনা প্রশ্নের জাবাব তিনি এড়িয়ে যান।

কালিহাতী থানার এসআই আলামিন আপস মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এটা আপসযোগ্য নয়। আইনগতভাবে আপস করার কারও এখতিয়ার নেই।” 

কালিহাতী থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, প্রথমে গত ১৩ নভেম্বর ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার থানায় হুমকির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মেয়েটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা নেওয়া হয়। ১৬ নভেম্বর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে এবং মেয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করতে আদালতে পাঠানো হয়। 

“মেয়েটি আদালতে ২২ ধারায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জবানবন্দি দেন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক