০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

শাবিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন, শিক্ষিকার অভিযোগ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 12:23 AM

Updated : 01 Nov 2026, 12:23 AM

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা না মেনে প্রার্থী বাছাইয়ের অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষিকা।

একই সিজিপিএ ধারী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ইউজিসি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বরের বিবেচনা না করে প্রার্থী মনোনয়নের অভিযোগ তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা (বিএমবি) বিভাগের প্রভাষক সানজিদা আক্তার।

শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বাছাই প্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী মনোনয়ন পরিবর্তন, একাডেমিক নম্বর সংরক্ষণে ঘাটতি এবং পুনঃযাচাইয়ের কাগজপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সানজিদা আক্তার বলেন, তিনি এবং তার এক সহপাঠীর সিজিপিএ সমান এবং দুজনই পরবর্তীতে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ইউজিসির ২০১৭ ও ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, সিজিপিএ সমান হলে প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হার বা নম্বর বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। বিভাগের সংরক্ষিত রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্নাতকের মোট ৬৩টি কোর্সের মধ্যে ৪৫টি কোর্সের প্রকৃত নম্বরে সানজিদা অপর প্রার্থীর চেয়ে ৪০ দশমিক ২৫ নম্বরে এগিয়ে আছেন।

প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা না করে অন্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন সানজিদা আক্তার।

সবগুলো কোর্সের প্রাপ্ত নম্বর যাচাই করার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে চাওয়া হলে দপ্তর থেকে নম্বর সংরক্ষণ নেই বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে সানজিদা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তরে নম্বর সংরক্ষিত না থাকার কারণে একজন শিক্ষার্থী কেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন? যেখানে ২০২১ সালে একই অনুষদের সকল বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়ে ইউজিসি মেধাবৃত্তি পেয়েছি, সেখানে আমি কেন ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত হবো?

“২০২২ সালে বিভাগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ডিন অফিসে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার পরিবর্তে অন্য প্রার্থীর নাম ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। সেটা কিভাবে হলো আমি তা কোনোভাবেই জানতে পারিনি।”

তিনি বলেন, “২০২৬ সালের জুনে ইউজিসির পুনঃযাচাই চিঠির পর আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সময়মতো পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ডিন বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য আমি পাইনি।

“পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতার অভাব ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধান, ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ এবং লিখিত আবেদন করেও সুনির্দিষ্ট সমাধান পাইনি। এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি সম্পর্কে অস্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে।”

৯ আগস্ট এবং পরবর্তীতে ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবরও লিখিত অভিযোগ করে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সানজিদা আক্তার।

তিনি বলেন, “আমি কারও ব্যক্তিগত বিরোধিতা করছি না। প্রকৃত একাডেমিক রেকর্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ পুনর্মূল্যায়ন এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল শোয়েব বলেন, “সানজিদা আক্তারকে প্রথম মনোনয়ন দিয়েছিল আমি সেটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম। এখন ইউজিসি পুনঃযাচাইয়ের জন্য কারো অভিযোগ থাকলে জানাতে বলেছেন। শুনেছি, সানজিদা আক্তার অভিযোগ জানিয়েছেন। এটা এখন ইউজিসি যাচাই করবে। আর সব কোর্সের নম্বর বিভাগের কাছে থাকে না। অনেকগুলো কোর্স নন-মেজর থাকে। সবগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে পাওয়া যেতে পারে।”

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরীকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হোসাইন বলেন, “এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিভাগ থেকে যেভাবে নম্বর দেয়, সেভাবে আমাদের দেয়।”

তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি কোর্সের প্রাপ্ত নম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে স্টোরেজ থাকে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ফারুক মিয়া বলেন, “সানজিদার প্রাথমিক মনোনয়নের বিষয়ে আমি অবগত নই। ওই সময় আমি ডিনের দায়িত্বেও ছিলাম না।”

তিনি বলেন, “তাদের দুজনের সিজিপিএ সমান। সব কোর্সের প্রকৃত নম্বরও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ছিল না। এ অবস্থায় কমিটির সবাই মিলে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে একটি রেজাল্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। সেখানে সেমিস্টারভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে দুই প্রার্থীর তুলনামূলক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কার নাম ইউজিসিতে পাঠিয়েছে সেটা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, “এই বিষয়ে আমার নিয়োগের আগেই একটা কমিটি করা হয়েছিল। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর সানজিদা আক্তার আমার কাছে এসেছিলেন। আমি এটি পুনরায় যাচাইয়ের ডিনের কাছে ফরওয়ার্ড করেছি। উনারা আবার যাছাই করেছে ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী। সেটিই আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি।”