বরিশালে হিন্দু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে
বি এন খান কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় একটি হিন্দু পরিবারের পৈতৃক জমি ও পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
পরিবারটির অভিযোগ, আলহাজ বি এন খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ২৯ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে।
বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে শনিবার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, তার দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯ শতাংশ জমি ও একটি পুকুর ১৯৫৯ সাল থেকে পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে।
সঞ্জয়ের অভিযোগ, সম্প্রতি কলেজের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়া, সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা সাত-আটজন ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ১৪ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমির পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে তার কাকা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান সঞ্জয়। এর আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তারা।
সঞ্জয় চন্দ্র দাসের অভিযোগ, বরিশাল আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার যোগসাজশে তাদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে বি এন খান ডিগ্রি কলেজের অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।
তার দাবি, আপত্তি ও আপিল পর্যায়ের কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত যাচাইয়ের সময় তাদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। তাদের অগোচরে জমি কর্তন করে কলেজের অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সঞ্জয় বলেন, এ ঘটনায় বরিশাল আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ চলমান রয়েছে। ১১ নভেম্বর এ মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়া উজিরপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের আরেকটি মামলা চলছে।
তিনি বলেন, সম্পত্তির মালিকানা ও দখল রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা করেন তারা। মামলাটির নম্বর ১৪/২০২০। আগামী ১৯ নভেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে।
এ ছাড়া এ সম্পত্তি নিয়ে হাই কোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেছেন বলে দাবি করেন সঞ্জয়।
বিরোধপূর্ণ জমিটি উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ নম্বর ১৩৪, বিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ নম্বর ১৯৬৩। জমির পরিমাণ ২৯ শতাংশ।
সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, জমি ফিরে পাওয়া, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বি এন খান কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে জমি নিয়ে কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিএস পর্চা অনুযায়ী, এই জমির মালিক কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী, খাজনা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলা চলছে। মামলার রায় অনুযায়ী, কলেজ কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
