পঞ্চগড়ে ধর্ষণ ও হত্যার পর রেললাইনে ফেলা হয় নারীর লাশ, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ঘটনার প্রায় দুই মাস পর চুরির সময় যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে মোবাইলে ওই নারীর ভিডিও ও ছবি পায় পুলিশ।
পঞ্চগড়ে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রেললাইনে ফেলে দেওয়ার অপরাধে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬)। তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।
মামলার বরাতে পিপি বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের পাশে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার তাকে তাদের নিখোঁজ মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করে দাফন করে।
ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় একটি ইজিবাইক চুরির সময় রিফাতকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
এ সময় তার মোবাইলে ওই নারীর ভিডিও ও ছবি পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে রিফাতের পরিচয় হয়। পরে তাকে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘর ও সুপারি বাগানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি।
একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে রিফাত ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে ঘটনা আড়াল করতে লাশ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে চলে যান। পরে ট্রেনে কাটা পড়ে লাশটি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটোয়ারী থানার এসআই মো. জহুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৫ অগাস্ট রিফাতের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পিপি খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
