০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নারীসহ ভিডিও ভাইরালের পর অব্যাহতিপ্রাপ্ত জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর

তাইজুল দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 05:34 PM

Updated : 01 Nov 2026, 05:34 PM

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

রোববার সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন।

ওই নেতার নাম তাইজুল ইসলাম। তিনি নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দুপুরে তাইজুলের বাড়িতে এক নারীর সঙ্গে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একটি কক্ষে ওই নারীর সঙ্গে তাইজুলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন তাইজুল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নারীও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসার জন্য গিয়ে ওষুধ খাওয়ার পর তারা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার এক সপ্তাহ পর রোববার সকালে কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তাইজুলের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। এ সময় ব্যানার হাতে তার শাস্তির দাবিতে অবস্থান নেন তারা। পাশাপাশি তার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার দুদিন পর ২৭ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখার আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আমাদের কাছে আসেন। নিলখী ইউনিয়ন শিবচর উপজেলা শহর থেকে বেশ দূরবর্তী এলাকা। আমরা তাইজুলকে জামায়াতের দাওয়াত ও প্রচারের দায়িত্ব দিই। তিনিও কাজ করে যাচ্ছিলেন। যেহেতু তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই স্থানীয়রা তাকে ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেই মনে করতেন। বিষয়টি জানার পর তাকে আমাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, তাইজুল তার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাইজুলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ওসি কামাল হোসেন বলেন, সকালে তাইজুলের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরে কয়েকজন তার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।