২৫ দিনের ব্যবধানে নরসিংদীর মাদ্রাসা থেকে ২ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

২৫ দিন আগে এই মাদরাসার শৌচাগার থেকে আফরিন আক্তার নামে আরেক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নরসিংদী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2022, 03:13 PM
Updated : 2 Dec 2022, 03:13 PM

নরসিংদী সদর উপজেলার একটি মাদারাসা শৌচাগারের ভেতর থেকে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার মাধবদী থানার কুঁড়েরপাড় এলাকার জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান জানান। 

নিহত মাইশা (১০) মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মাধবদী ভগীরথপুর গ্রামের মো. নেছার উদ্দিনের মেয়ে।

এ ঘটনার ২৫ দিন আগে এই মাদরাসার শৌচাগার থেকে আফরিন আক্তার নামে আরেক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শৌচাগারের ভেন্টিলেটরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পেয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অপরদিকে পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন বলেন, “মাদরাসা থেকে মাইশার বাবাকে কল করে জানানো হয়, আপনার মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। পরে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। চিকিৎসক জানান, মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।“ 

“তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ১০ বছরের শিশু বাচ্চা কিভাবে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে? নিশ্চয় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।”

মাইশার ফুফা আইনুল হক বলেন, “আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায়, এটা একটি হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। ২৫ দিন আগেও এই মাদরাসায় আরেক মেয়ের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটে।”

মাইশার মা বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার সারা শরীরে মাইরের চিহ্ন আছে। আমি খুনের বিচার চাই। মাদরাসার হুজুরই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।“

তবে এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামীম মুফতি আহসান উল্লাহ বলেন, “মাইশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। আমাকে মাদরাসার হুজুর ও খাদেম ঘটনা বললে আমরা গিয়ে দেখি এই অবস্থা। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল বলেন, “শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে জানান, একজন ছাত্রীকে মাদরাসার বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায় ও মেয়েটির মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি কিভাবে ঘটল আমি বলতে পারছি না।“

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এবং মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান বলেন, সদর হাসপাতাল মর্গে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে এখনও মামলা হয়নি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক