সিলেটে সোনিয়া হত্যা: মামাতো ভাই গ্রেপ্তার
সজিব ঢাকার ভাষানটেক থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেল খেটেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
সিলেট নগরীতে কলেজছাত্রী সোনিয়া আক্তার হত্যা মামলার একমাত্র আসামি মো. সজিব আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার রাতে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. মোমিনুল হক জানান।
গত রোববার সিলেট নগরীর খুলিয়াটুলা আবাসিক এলাকার বাসায় সোনিয়া আক্তার (২০) খুন হন।
এ ঘটনায় সোনিয়ার মামাতো ভাই মো. সজিব আহমদকে (২৫) একমাত্র আসামি করে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন সোনিয়ার বড় ভাই পারভেজ আহমদ।
সজিব হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার শরীফনগর গ্রামের মো. নুরুদ্দিনের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা মোমিনুল হক জানান, সজিব প্রায়ই সোনিয়াদের বাসায় আসতেন। তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসার কথা বলে সাত দিন যাবৎ সোনিয়াদের বাসায় অবস্থান করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন সোনিয়া চাকরির সন্ধানে সজিবকে নিয়ে বিয়ানীবাজার যান। ঘটনার দিন সকালে সোনিয়ার সৎ বাবা অসুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল থেকে সোনিয়ার মা দুপুরে বাসায় ফিরে সোনিয়াকে দেখতে না পেয়ে তার শয়নকক্ষে ঢুকে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
তিনি জানান, সোনিয়ার গলার বাম পাশে কাটা এবং ডান হাতের কব্জির রগ কাটা পাওয়া যায়। পুলিশ এ সময় তল্লাশি করে ঘটনাস্থলে খাটের তোষকের নিচ থেকে ধারালো রক্তমাখা একটি কাঁচি উদ্ধার করে।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, সজিবের নামে ঢাকার ভাষানটেক থানায় মামলা রয়েছে। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে শিশু অপহরণ ও সহায়তার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ মামলায় তিনি গ্রেপ্তারের পর জেলও খেটেছেন।
রোববার দুপুরে সিলেট নগরীর খুলিয়াটুলা আবাসিক এলাকার নীলিমা-১৪ নম্বর বাসার চতুর্থ তলা থেকে সোনিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। সোনিয়া আক্তার জকিগঞ্জ উপজেলার কলাছড়া গ্রামের বিল্লাল আহমদের মেয়ে ও দক্ষিণ সুরমার নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী। তিনি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে ওই বাসার ৪র্থ তলায় থাকতেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে নিহত সোনিয়ার বড় ভাই পারভেজ আহমদ বাদী হয়ে সজিবকে প্রধান আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোনিয়ার মা অমিতা বেগম জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে খালার বাসা থেকে মামাতো ভাই সজিবের সঙ্গে বাসায় আসেন সোনিয়া। রাতে সোনিয়াদের বাসায় থেকে যান সজিব। রোববার সকাল ৭টার দিকে তিনি সোনিয়া ও সজিবকে বাসায় রেখে বাইরে যান। পরে দুপুর ১২টার দিকে বাসায় এসে দেখেন সোনিয়ার মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে।
