১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ জেএসএসের

সরকার অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Dec 2025, 02:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ‘মিথ্যাচার’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় নেতারা।

তাদের দাবি, সরকার যে বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখাচ্ছে তা সঠিক নয়; এখনো চুক্তির মৌলিক বহু ধারা সম্পূর্ণ অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা সদরের মারমা উন্নয়ন সংসদে গণসমাবেশ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির

(এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরাসহ অন্যরা।  

সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে-পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়িত, ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত এবং নয়টি ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।

“আমাদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাত্র ২৪টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৪টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত, আর ৩৪টি ধারা এখনো পুরোপুরি অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।”

কিন্তু চুক্তির মৌলিক ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি জানিয়ে তিনিও বলেন, “চুক্তি মোতাবেক ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

“পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ‘১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’-কার্যকর রাখতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার কার্যাবলি সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা অভিযোগ করেন, “২৮ বছর অনেক সময়। কিন্তু সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি।

“দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আর ২৮ বছরেও চুক্তিটি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বিক্ষুব্ধ। সরকার যদি চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আমরা নতুন করে মাঠে নামব।"

আলোচনা সভায় বক্তারা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানান। সরকার অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা। এসময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা। 

এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা গণসমাবেশে যোগ দেন।