Published : 14 Jul 2026, 11:52 AM
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দুর্বার গতিতে ছুটছে ফ্রান্স। তাদেরকে মনে করা হচ্ছে, শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। তবে স্পেনের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে যেন মনস্তাত্ত্বিক খেলায় নেমেছেন দিদিয়ে দেশোঁ। প্রতিপক্ষকে এবারের আসরের ফেভারিট তকমা দিয়ে ফ্রান্স কোচ বলেছেন, এই কারণেই আসছে ম্যাচে একটু বেশি চাপে থাকবে স্প্যানিশরা।
ডালাসে ১৫ জুলাই প্রথম সেমি-ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) শুরু মাঠের লড়াই।
এই ম্যাচটিকে অনেকের মতো স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মনে করছেন, ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল।’ কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া বলেছেন, ‘ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের বিজয়ী হবে এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন।’ তাই ম্যাচটিকে ঘিরে রোমাঞ্চ-উত্তেজনার কমতি নেই কোনো অংশে।
ফেভারিট হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে খেলছে দুই দলই। তবে স্পেনের চেয়ে ফ্রান্সের পথচলাটা এখন পর্যন্ত বেশি মসৃণ। দাপুটে ফুটবলে একের পর এক ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। শতভাগ জয়ে গ্রুপ সেরা হওয়া দলটি এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচেই খেলেনি অতিরিক্ত সময়ে।
নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ধাক্কা খেয়ে আসর শুরু করেছিল স্পেন। সময়ের সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্ব শুরু করে দলটি। যেখানে ফরাসিদের মতো তিনটি ম্যাচই নির্ধারিত সময়ে জিতে নিয়েছে স্প্যানিশরা।
স্কোয়াডের শক্তি, ফুটবল ঐতিহ্য, ডাগআউটে সফল মুখ- সব মিলিয়ে কোনো এক দলকে এগিয়ে রাখার সুযোগ খুব একটা নেই। তবে, বাড়তি আত্মবিশ্বাস খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় স্পেন কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকতে পারে। কারণ সবশেষ দুইবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী তারাই।
দুটিই সেমি-ফাইনাল: ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পথে শেষ চারে ফরাসিদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন, আর গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগে ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ৯ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল দে লা ফুয়েন্তের দল। যদিও পরে ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে যায় তারা।
তবে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাফল্যের হার স্পেনের চেয়ে অনেক বেশি। তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার অভিযানে ছুটছে ফরাসিরা। ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, গতবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছিল দেশোঁর দল।
আর স্পেন তাদের একমাত্র বিশ্বসেরার মুকুট জিতেছিল ২০১০ আসরে। তবে টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় ধারায় ছুটছে দলটি, সেমি-ফাইনালে হার এড়ালেই তারা ছুঁয়ে ফেলবে ইতালির ৩৭ ম্যাচের অপরাজেয় রেকর্ড।
সব মিলিয়ে, এমন একটি লড়াইয়ের আগে চাপে থাকার কথা দুই দলেরই। সেই চাপকে যেন কিছুটা সরিয়ে দিতে চাইলেন দেশোঁ স্পেনকে ফেভারিটের তকমা দিয়ে। তবে হাড্ডাহাড্ডি একটি লড়াইয়ের আশায় আছেন তিনিও।
“তারা বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। গত গ্রীষ্মে নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাই… এই বিশ্বকাপের আগে আমাদের ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, কিন্তু স্পেনই এখন ফেভারিট।
“আর এটা তাদের ওপর আরও চাপ তৈরি করবে, কারণ তারা এরই মধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছে। যদিও (নেশন্স লিগের) ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে তারা হেরেছে, তবুও তারা শক্তিশালী একটি দল। এটা বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনাল, তাই খেলা অনেক উঁচু মানের হবে।”
এখন পর্যন্ত ৩৮টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও ফ্রান্স। যার মধ্যে ১৮টি জিতেছে স্প্যানিশরা, ফরাসিদের জয় ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।