১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় সমাবেশের পর ‘মামলা-চাপে’ বিএনপি, ঘর গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগও

দলটির নগর শাখার ৭২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে আওয়ামী লীগ।

শুভ্র শচীন, খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Nov 2022, 04:15 PM

Updated : 03 Nov 2022, 04:27 PM

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে সরব হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, সেই আঁচে শীতের আগে উত্তাপ বাড়ছে খুলনায়।

নানা বাধার পরও খুলনায় বিভাগীয় গণসমাবেশ করতে পেরে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তবে এখন নতুন করে ‘মামলার চাপ’ বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন দলটির নেতারা। 

অন্যদিকে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে নভেম্বরে মাসব্যাপী দল গোছানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। আগামী ৪ নভেম্বর নগরীর দৌলতপুরে এবং ১ ডিসেম্বর হাদিস পার্কে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

দুই মাসের বেশি সময় দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচির পর গত ১২ অক্টোবর থেকে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর খুলনায় গণসমাবেশ করে দলটি। ওই গণসমাবেশের পর বিভিন্ন অভিযোগে ৭২০ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

খুলনা নগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন,  “বাধা দিয়েও গণসমাবেশে জনস্র্রোত ঠেকাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি জানান, খুলনা রেলস্টেশন ভাঙচুরের অভিযোগ করে ২২ অক্টোবর রাতে জিআরপি থানায় বিএনপির ১৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার।

পরদিন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে নগরীর দৌলতপুর থানায় মামলা করেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কাজী মোবাশ্বের। ওই মামলায় দৌলতপুর থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির ৫৯ নেতার নাম উল্লেখ অজ্ঞাতপরিচয়  আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

সমাবেশের দিন শ্রমিক লীগের সভাপতিসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে নগরীর দৌলতপুর থানায় আরেকটি মামলা করেন নতুনরাস্তা বেবিস্ট্যান্ড শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সেই মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০/২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া ২৬ অক্টোবর নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মামলা করেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এ মামলায় নগরীর ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

বিএনপি মামলা নিয়ে ‘ভীত নয়’ মন্তব্য করে মনা বলেন, “আইনিভাবে এসব মামলা মোকাবেলা করা হবে। পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চলবে।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, “মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে চাপিয়ে রাখা যাবে না। যে কোনো পরিস্থিতি মাঠেই মোকাবিলা করা হবে।”

খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এরই মধ্যে নয়টি টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান এ বিএনপি নেতা।

অন্যদিকে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কথা তুলে ধরে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে দলীয় কার্যালয়ে খুলনা নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়। সেই সভায় ৪ নভেম্বর নগরীর দৌলতপুর নতুনরাস্তা মোড় ও ১ ডিসেম্বর নগরীর শহীদ হাদিসপার্কে জনসভার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে ২ নভেম্বর সদর থানা, ৫ নভেম্বর সোনাডাঙ্গা থানা, ১১ নভেম্বর খালিশপুর থানা ও ১২ নভেম্বর খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় দিবসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে খালেক বলেন, “হঠাৎ সরব হওয়া বিএনপির সমাবেশ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা জনসভা করে দেখাতে চাই, জনগণ কাদের সঙ্গে আছে।”

বিএনপি নেতাদের ‘উসকানি এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব’ রাজনৈতিকভাবে সমাবেশে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।