Published : 23 Sep 2025, 01:10 PM
কুড়িগ্রামে বীজ ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আগাম সবজি চাষিরা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, বাজারে সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি করে থাকতে পারেন।
অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ি গ্রামের চাষি মকবুল হোসেন বলেন, “গতবার ফুলকপির বীজ কিনেছি ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে। এবার সেই বীজ কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।”
তার দাবি, “গতবার এক হাজার ৩০০ টাকা দরের সার এবার বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা দরে।”

একই গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, “আমাদের এখানকার অনেক চাষি এনজিও থেকে ঋণ করে অথবা গরু বা ছাগল বিক্রি করে অনেক আশা নিয়ে আগাম সবজি চাষ করেন।
“কিন্তু সঠিক সময়ে সার না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের। সেই সঙ্গে দ্বিগুণ মূল্যে বীজ ও সার কিনে খরচের টাকা ওঠাতে পারবেন কি-না সেই আশঙ্কাও থেকে যায়।”
এ কৃষক বলছেন, “চাষিরা আগাম ফুলকপি বুনে লাভের আশা করলেও সার ও বীজের লাগামহীন মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।”
আবদার হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, “শুধু বীজ ও সার নয়; বিরূপ আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করে আগাম সবজি চাষ করতে হয় আমাদের। বৃষ্টি বা কড়া রোদ হলে বীজের ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি কাটাতে অধিক মূল্যে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।”

কৃষক যেন বেঁচে থাকতে পারে এ জন্য সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্যের দিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এবার রাজারহাট উপজেলায় ২৯ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ করা হচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুন নাহার সাথী বলেন, “মৌসুমের শুরুতে বাজারে আগাম ফুলকপি সরবরাহ করে অধিক লাভের আশায় ফুলকপি চাষ করছেন কৃষকরা।”
“আমরা সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছি। কেউ সারের বেশি দাম চাইলে আমরা খবর পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।”
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ বছর বন্যা ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে চরাঞ্চলে রোপা আমনের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলে এক লাখ ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর।
“ইতোমধ্যে একলাখ ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় সারের চাহিদা বেড়ে যায়। তবুও সারের কোনো সংকট নেই।”
তার ভাষ্য, “খুচরা ব্যবসায়ীরা একটি কৃত্রিম সংকটের প্রক্রিয়া করতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা সজাগ আছি।”