Published : 14 Jun 2024, 04:56 PM
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেড়েছে।
শুক্রবার ভোর থেকে এ দুটি মহাসড়কে গাড়িগুলোকে ধীর গতিতে চলতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোট ছোট যানজটের মুখেও পড়তে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষকে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস মোড়, চন্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় গাড়ির চাপ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সন্ধ্যায় এই চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। এর মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে৷
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার অনেক শিল্প-কারখানার ছুটি হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে এসব কর্মজীবীরা বাসা থেকে বের হননি। তাদের অনেকেই শুক্রবার ভোর থেকে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা শুক্রবার ছুটি হয়ে গেছে। এতে দুপুরের পর মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।
সকালে সরজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর উড়াল সড়ক থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে যানবাহন। কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে কবিরপুর থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈরের খাড়াজোরা পর্যন্ত কোথাও দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট।
এই অবস্থার মধ্যে যাত্রীরা যে যেভাবে পারছেন বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাস, ট্রাক, পিকআপ বা ফিরতি পশুবাহী ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন। তবে পিকআপে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষ করে বগুড়া, নওগাঁ, গাইবান্ধা, নাটোরের লোকজনকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনগুলোতে উঠতে দেখা গেছে৷ স্বাভাবিক সময়ের থেকে ভাড়া বেশি হাওয়ায় শিল্প-কারখানা শ্রমিকরা কম ভাড়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবহার করে বাড়ি ফিরছেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার, ভোগরা বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, সালনা বাজার এলাকায়ও একই অবস্থা দেখ গেছে। এসব স্থানে সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় দায়িত্ব পালনরত গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষ এবং গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া এদিন বিকালে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকা থেকে চন্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে একাধিক স্থানে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পানি কমলেও গাড়ির চাপ থাকে রাত ২টা পর্যন্ত।”

পরে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলেও শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যাত্রী এবং গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। দুপুরে গাড়ির চাপ কমলেও বিকালে আবার তা বেড়ে গেছে। এতে যানজট না হলেও চন্দনা-চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় মাঝে মধ্যেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ট্রাফিক পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
বগুড়া জেলার বাসিন্দা মো. রায়হান বলেন, “সকালে বের হয়ে দেখি রাস্তায় মানুষের অনেক চাপ৷ অন্য সময়ের থেকে দুইগুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছে বাসগুলো। এখন গাড়ির মালিকদের সঙ্গে ভাড়ার বিষয়ে দর-কষাকষির কোনো সুযোগই নেই। যার ফলে ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে সবাই, এগুলো দেখার কেউ নেই।”
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, মহাসড়কটির কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই। বৃষ্টির কারণে মাঝে কিছুটা ধীরগতি হয়। গাজীপুরসহ আশপাশের সব শিল্প-কারখানা আজ ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে। কারখানা ছুটি হলে বিকালে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
তিনি বলেন, মহাসড়কে যানজট নিরসনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রেকার মজুত রাখা হয়েছে যাতে কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কোনো টার্মিনাল না থাকায় ফ্লাইওভারের নিচে ময়মনসিংহগামী কিছু গাড়ি যাত্রী তোলার জন্য ভিড় করলেও এখানে কোনো যানজট তৈরি হচ্ছে না। অন্যান্য দিনের মতোই গাড়ি চলাচল করছে।
“আর উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার যানবাহন ফ্লাইওভারের উপর দিয়েই চলে যাচ্ছে। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আজকেও প্রায় ১৬ ভাগ পোশাক কারখানা ছুটি হবে। বাকি কারখানা শনিবার ছুটি হলে এই মহাসড়কে আরও গাড়ির চাপ ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাবে”, বলেন উপ-কমিশনার।