Published : 11 Jun 2026, 07:59 PM
সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলায় উপকূল রক্ষী বাহিনী কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশনে গ্রামবাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে জয়মনিরঘোল এলাকার গ্রামের নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ছোট ছোট নৌকায় গিয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশনের নৌযানে হামলা চালায়।
বিকালে কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামলার কারণ হিসেবে কোস্ট গার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, “মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা চালানো হয়েছে।”
উপকূল রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এলাকাটি মূল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি হওয়ায় এবং যোগাযোগ সমস্যার কারণে গ্রামবাসী বা স্থানীয়দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের হামলা-ভাঙচুরের পৌনে দুই মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জয়মনিরঘোল এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে পশুর নদে কোস্ট গার্ডের নৌযানে উঠে পড়েন। তারা কোস্ট গার্ড সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
কোস্ট গার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
“বিশেষ করে জয়মনিরঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।”
এই পরিপ্রেক্ষিতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার কথা বলে কোস্ট গার্ড বলেছে, হামলায় দায়িত্ব পালনরত তাদের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।
একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, “কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কেউ বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।”
এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার ঘবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তারা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে এ ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার নেই জানিয়ে ওসি বলেন, এ ব্যাপারে কোস্ট গার্ড থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সকাল থেকে আমরা উত্তেজনার কথা জানতে পারি। গ্রামবাসী সেখানে কোস্ট গার্ডে স্টেশনে হামলা চালিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করে দেখছে।”