Published : 11 Jun 2026, 09:43 PM
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানো হলেও সফর শেষে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এ রাস্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ি এলাকায় তার পৈতৃক বাড়িতে যান এবং খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের-এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, “নিয়ম মেনেই সাময়িকভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে রাস্তার ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। কারণ, রাস্তা পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই প্রকল্প অনুমোদিত রয়েছে।”
তিনি বলেন, “অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইটগুলো ভাড়ায় নেওয়া হয়েছিল।”
২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফর করেন। এ সময় তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম এবং চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তার পৈতৃক ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন।
সফরকে কেন্দ্র করে নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। এ কাজের দায়িত্ব পান শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান।
আতিকুর রহমান বলেন, “এলজিইডির দায়িত্বে আমরা ভাটা থেকে ইট এনে রাস্তার ওপর বিছিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার পর সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কাজে শুধু শ্রমিক ও পরিবহন খরচ দেওয়া হয়েছে।”
তবে এ কাজের জন্য কত টাকা পেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।
বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু তালুকদার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে সড়কে ইট বিছানোয় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিছুদিন হলেও দুর্ভোগ কমেছিল। এখন ইট তুলে নেওয়ায় আবারও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।”
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “৫০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে মূল কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইট বিছানোয় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তার কাজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা এখনও ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি।”
বাগবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জোবাইদুর রহমান গামা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন স্থায়ী নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন, যাতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমে।”
নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
গত বছরের অগাস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজের কার্যাদেশ পায়। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।