Published : 30 Jun 2026, 10:17 PM
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাংশ।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গোলচত্বর থেকে শিক্ষাভবন ‘ই’ পর্যন্ত মৌন মিছিল করেন।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ বা কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলাগুলো বড় পর্দায় দেখানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সোহাগ মাহমুদ বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
“ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান বলেন, “কিছুদিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে বিগত স্বৈরাচারের সহযোগী কিছু শিক্ষক এবং শহীদ রুদ্র সেন হত্যার আসামি সাবেক প্রক্টর কামরুজ্জামানকে অতিথি হিসেবে আনা হয়। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল জায়গাতেই এই ‘খুনি শিক্ষক’রা এখনও বহাল তবিয়তে অবস্থান করছেন।”
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, মোস্তাকিন ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার সম্পাদক মকবুল হোসেন এবং সহ-সমাজসেবা সম্পাদক আশিকুর রহমান মারুফ উপস্থিত ছিলেন।
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হলে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে খোলা মাঠে বড় পর্দায় খেলা সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
দাবির পরও খোলা মাঠে খেলা দেখার আয়োজন না করায় এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেও আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে নিজেদের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখার আয়োজন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। মেয়েদের হলের ফাটলের বিষয়টা সমাধানে কাজ করতেছি। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভাল হয়, এমন সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা একের পর এক কাজ করব।”