Published : 10 Jul 2026, 02:33 PM
খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণের পর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকার পানি সরে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে বাঘাইহাট–মাচালং–সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সাজেক থেকে ফিরেছেন আটকে পড়া পর্যটকরা।
তবে দীঘিনালা–লংগদু ও খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলায় একটি সেতু তলিয়ে যাওয়ায় মুবাছড়ি এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় কবাখালী সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। উপজেলার মাইনী নদীর পানিও কমছে। তবে নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মেরুং ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত রয়েছে।

ইউএনও বলেন, উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেরুং ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, “আমাদের ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে। সড়কও বন্ধ। খুব ভোগান্তিতে আছি। কবে পানি নামবে সেটিও বলা যাচ্ছে না।"
এদিকে চেঙ্গী নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে খাগড়াছড়ি শহরের বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি ও রাজ্যমণিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচের বাজার ও গঞ্জপাড়া এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।

পানি কমে যাওয়ায় অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
এর আগে সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে দীঘিনালা–লংগদু সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকা এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও লিমুছড়ি সড়কের ওপর পানি উঠে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়া টানা বৃষ্টিকে জেলায় বন্যার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।
এর মধ্যে মহালছড়ি–গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং খাগড়াছড়ি শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা ও হরিনাথপাড়া গ্যাপ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওযায় অনুরোধ করলেও অধিকাংশ লোকজন বাড়ি ছেড়ে যাননি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন এবং পানিবন্দি পারিবারগুলোকে খিচুড়ি, পানি, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।”
আগের সংবাদ
বন্যার পানিতে এখনও ডুবে সাজেক সড়ক, ‘অনিশ্চয়তায়’ পর্যটকদের ফেরা