Published : 10 Jul 2026, 03:15 PM
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বানের পানিতে ভেসে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
জেলার মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে জুড়ি ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার ভোরে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার ইউনিয়নের আকুয়া এলাকায় বানের পানিতে ভেসে গিয়ে ৭০ বছর বয়সী আশরাফ আলীর মৃত্যু হয় বলে রাজনগর থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আশরাফ আলী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ভেসে যান। সকালে পাশের ডোবায় তার লাশ ভেসে উঠে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী-মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতে ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার সকালে তা কিছুটা কমেছে। তবে নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি এখনও কাটেনি।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে উজিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্কুল ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যান। অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ধলাই নদীর মখাবিল বাঁধ দিয়ে আকস্মিক পানি প্রবেশ করায় অন্তত ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শ্রীপুর, গোলেরহাওর, ভান্ডারীগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
কৃষিজমি ও আমন ধানের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকস্মিকভাবে পানি বাড়তে থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, “বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তা, উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো খুলে দেওয়া হবে।”