১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম নগরীর ৮০% জায়গা থেকে পানি নেমেছে: মেয়র

“সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চট্টগ্রাম নগরীর ৮০% জায়গা থেকে পানি নেমেছে: মেয়র
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এবং মোহরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি দেখেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-১১ সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2026, 03:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধ এলাকার ৮০ শতাংশ থেকে পানি নেমে গেছে বলে দাবি করেছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। 

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর অবশিষ্ট জলাবদ্ধ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এই দাবি করেন। 

অতি ভারি বৃষ্টিতে রোববার রাত থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা শুরু হয়। মঙ্গলবার রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে যায়। বুধবার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পুরো নগরীর সিহংভাগ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। 

বৃহস্পতিবারও বেশ কিছু এলাকায় পানি ছিল। সে দিন দুপুর থেকে পানি নামতে শুরু করে। তবে শুক্রবারও নগরীর চান্দগাঁও, মোহরা, হালিশহর, পতেঙ্গা, ষোলশহর ও আগ্রাবাদের কিছু এলাকায় পানি আছে।

এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে তেমন বৃষ্টি হয়নি। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য মতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার। 

নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। 

এসময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মেয়র ও সংসদ সদস্য চান্দগাঁও হাজীরপোল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এবং শমসেরপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকাও ঘুরে দেখেন। 

পরিদর্শনকালে কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করেন তারা।

পরিদর্শন শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। এসব এলাকায় কেন পানি দ্রুত নামছে না, তা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। 

“সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, “যেসব নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে, সেগুলো থেকেও খুব শিগগিরই পানি নেমে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

“পানিবন্দি মানুষের পাশে বর্তমান সরকার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা রাখা হবে না।”

রোববার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টায় আবহাওয়া অফিসের পতেঙ্গা কেন্দ্রে মোট ১০২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়। পাঁচদিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়ে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।