Published : 07 Sep 2025, 05:52 PM
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি রেডিমিক্স সিমেন্ট কারখানার গাড়িতে ‘ঢিল মারায়’ চালক ও কারখানার কর্মীরা মিলে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
রোববার ভোরে আদমজী এলাকায় ক্রাউন সিমেন্টের রেডিমিক্স কংক্রিট কারখানার ভেতরে ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান জানান।
নিহত ৩০ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন আদমজীর নয়াপাড়া এলাকার মুরগি বিক্রেতা কামাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ কর্মকর্তা হাসিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ক্রাউন সিমেন্টের একটি গাড়িতে ‘ঢিল মারেন’ সাজ্জাদ।
“গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেলে ড্রাইভার, হেলপার ও কারখানায় রাতের শিফটের কর্মরত লোকজন তাকে ধরে কারখানার ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে সাজ্জাদকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।”
পরে সিমেন্ট কারখানার লোকজন সাজ্জাদকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাজ্জাদ ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ দাবি করে তার মামা আল আমিন হোসেন বলেন, “সে প্রায় সময় রাতের বেলা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। আমাদের এলাকাতেই ফ্যাক্টরি। ১০ মিনিটের হাঁটা পথ।
“সাজ্জাদ তো পাগলের মত, এলাকার সবাই জানে। রাতে ঈদগাহের সামনের রাস্তায় ক্রাউন সিমেন্টের গাড়িতে ঢিল দিছিল। এই কারণে ওরে ধইরা কারখানার ভেতরে নিয়া রাতভর পিটাইয়া মারছে।”
চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় সাজ্জাদ নবম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। তার বাবা কামাল এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে মুরগি বিক্রি করেন। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত সাজ্জাদের বাবা-মা।
পেশায় চা দোকানি আল আমিন বলেন, “ওরে নাকি ছিনতাইকারী বইলা কারখানার ভেতরে নিয়ে পিটাইছে। কিন্তু এলাকার সবাই জানে যে, ও পাগল কিসিমের মানুষ। ওরে ঘরে বাইন্ধাও রাখা যায় না, নিজের মনে ঘুইরা বেড়ায়। সেই পোলাডারে মাইরা ফেলল!”
মামার ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত সাজ্জাদের ঢিল মারা, তাকে ধরে কারখানায় নিয়ে মারধরের কথা জানতে না পরিবারের লোকজন। সকাল ৯টার দিকে সাজ্জাদের এক বন্ধুর কাছে তারা ঘটনা জানতে পারেন।
“আমি গিয়া লাশ পাই নাই। আগেই হাসপাতালের নিয়ে গেছে শুনি। ওরে রাতে যখন ধইরা নেয় তখন এক অটোরিকশার ড্রাইভার নিষেধ করছিল যে, ও পাগল, ওরে নিয়া কী করবা? কিন্তু কেউ শোনে নাই।”
“আমাগো বাড়ি তো পাশেই, ঢিল মারছে, আমাগোরে জানাইলেও হইত।”
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দুপুরে কারখানার অন্তত ১০ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
ওই সময় সেখানে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং আটকদের ওপর চড়াও হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, “ছিনতাইয়ের কোনো বিষয় আমরা পাইনি। এটি একটি হত্যাকাণ্ড, আমরা সেভাবেই তদন্ত করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেভাজন সিমেন্ট কারখানার গাড়ি চালক, তার সহযোগী, নিরাপত্তাকর্মীসহ ১০ জনকে আটক করেছি।
“তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভিক্টিম পরিবার মামলা করলে পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
দুপুরে ক্রাউন সিমেন্টের রেডিমিক্স কংক্রিট কারখানার কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে আদমজীর কারখানার গেটে গেলে নিরাপত্তা প্রহরীরা প্রবেশ করতে দেননি।
বিকাল ৫টার দিকে ক্রাউন সিমেন্টের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের জন্য দেওয়া নম্বরে কল করা হলে টেকনিক্যাল অপারেটর মিথুন বলেন, “আমি হেড অফিসে টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য আছি। আমি এ বিষয়ে ইনফর্মড নই।
“ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপনার কলের বিষয়টি জানানো হবে, তারা যোগাযোগ করবেন আপনার সঙ্গে।”
যদিও পরে কেউ আর যোগাযোগ করেনি।