Published : 08 Nov 2025, 10:44 PM
সহকারী শিক্ষকদের হঠাৎ করে কীভাবে দশম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থান ১৩তম গ্রেড। প্রধান শিক্ষকদের আমরা সবেমাত্র দশম গ্রেডে উন্নীত করেছি, তাহলে সহকারী শিক্ষকদের হঠাৎ করে ১৩তম গ্রেড থেকে কীভাবে দশম গ্রেডে উন্নীত করব?”
শনিবার দুপুরে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিধান রঞ্জন রায় বলেন, “আপনারা যেহেতু স্বাধীন দেশের নাগরিক, আন্দোলন করতে পারেন। কিন্তু আমরা যেটা দেখব, আমাদের পড়াশোনা যাতে বিঘ্নিত না হয়।
“আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মানের উন্নয়নের বিষয়টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। যদি অযৌক্তিক দাবি দিয়ে কেউ পড়াশোনাকে বিঘ্নিত করে, সেজন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের প্রধান শিক্ষকরা ১২ ও ১১ গ্রেডে বেতন পেতেন। বর্তমান সরকার তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে বড় আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে।
“সরকার মনে করেছে, প্রধান শিক্ষকদের দাবিটা যুক্তিসংগত ছিল। এজন্য তাদের দাবিটা আমরা বাস্তবায়ন করেছি। তবে সহকারী শিক্ষকরা যাতে ১১তম গ্রেড পেতে পারেন, সে জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখেছি, বেতন কমিশনে লিখেছি। ফলে দশম গ্রেডের দাবি তুলে এই মুহূর্তে আন্দোলনে যাওয়া আমার কাছে খুব যৌক্তিক মনে হয় না।”
এর আগে সভায় অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা। সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যক্রম- উভয় মিলেই শিশুর নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়।
শিক্ষকরা সাংগঠনিক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে হাজার হাজার শিশুর আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন বলে মন্তব্য করেন প্রাথমিক উপদেষ্টা।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ শাহ এবং খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।