Published : 14 Jul 2026, 02:51 PM
বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনের বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর’ প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ তার দলের ২৭ সদস্য অস্ত্র ও গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মোংলা কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে দপ্তরে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সাংবাদিকদের জানান, আত্মসমর্পণের সময় বনদস্যু দলের সদস্যরা তাদের কাছে থাকা তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫৫ রাউন্ড গুলির খোসা জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারী ২৭ জন হলেন- জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাহজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮), আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০), শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) ও মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮)।
তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
কোস্টগার্ডের দাবি, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, “আত্মসমর্পণের পর দস্যুদের দুপুরে মোংলা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
“পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।”
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২১ মে ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমনসহ সাত বনদস্যু পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এরপর ৯ জুলাই ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন দস্যু তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪০ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।