Published : 14 Jul 2026, 04:11 PM
সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টিতে পর্যটন জেলা কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেছেন, “অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার। জেলার চারটি স্থানে ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত উপকূলীয় বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
“মাতামুহুরী, পূর্বপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও শীলখালী এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলন কক্ষে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, “কোথাও কোথাও বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই বাঁধ কেটে পানি বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেটগুলো পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গত ৬ জুলাই থেকে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে জরুরি মেরামত কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“চলতি মৌসুমে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বন্যাপ্রবণ এলাকায় ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্রতিরক্ষা প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টির কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে।”
আজাদ বলেন, “জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। এছাড়া এক লাখের বেশি সিনথেটিক প্লাস্টিক জিওব্যাগও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
“আল্লাহ না করুন, আবার যদি ভারি বৃষ্টিপাত বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নদীভাঙন ও মানুষের জানমাল রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টি কমে আসায় অধিকাংশ নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বিপৎসীমার উপরে থাকা নদীগুলোর পানিও নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বন্দর নগরের জলাবদ্ধতা ‘অনেকাংশে’ দূর হবে বলে মনে করেন আজাদ।
তিনি বলেন, “পতেঙ্গা এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান।