Published : 14 Jul 2026, 04:08 PM
ময়মনসিংহে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বন্যার মধ্যে চলমান পরীক্ষা স্থগিতসহ চার দফা দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর টাউন হল এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে এ পথে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, নগরের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দুপুরে টাউন হল এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তারা টাউন হল মোড় এলাকা অবরোধ করে যান চলচাল বন্ধ করে দেন।
পরে দুপুর ২টার দিকে টাউন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল- বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না।

তাদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষা স্বাভাবিক আবহাওয়াতে ও সুস্থ পরিবেশে নিতে হবে, প্রশ্নপত্রের অযৌক্তিক মানদণ্ড রাখা যাবে না, যৌক্তিক কারণবশত যদি কেউ এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে তবে দ্রুত সম্ভব তার পুনঃপরীক্ষা নিতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর অমানবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে প্রকাশ্যে জবাবদিহিতা করতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা যদি তা যুক্তিসংগত মনে না করেন তবে তার পদত্যাগ করতে হবে।
কর্মসূচিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী দিদারুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম বোর্ডে বন্যা এবং সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষার স্থগিত না করে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, আমরা নাকি ফার্মের মুরগি।
“আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীরা বুক সমান পানির মধ্যে দিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে দেখেছি হাতে ছাতা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন আমাদেরকে এই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হবে।”
তিনি বলেন, “মন্ত্রী এসি রুমে বসে আছেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা কষ্ট করছেন। দেশের আবহাওয়া এত খারাপ, উনার কি চোখে পড়ে না?”

আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “দেশের আবহাওয়া ভালো না থাকায় আমরা চাচ্ছি চলমান পরীক্ষার স্থগিত করা হোক। শিক্ষামন্ত্রী বলছিলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করবেন। কিন্তু তিনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন না করে শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়াকড়ি পাহারা দিচ্ছে, সিসিটিভি ক্যামেরা বসাচ্ছে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।”
শিক্ষার্থী রাফিদ হাসান বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বুধবার পরীক্ষার পর আবারও আন্দোলন শুরু হবে।”
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যানবাহন চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে। আমরাও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন রেখেছিলাম, যেন পরিস্থিতির কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে।”
পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।