Published : 20 Oct 2025, 10:38 PM
দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা, অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভশক্তির জয়লাভের প্রত্যাশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা; যা কালী পূজা নামেও পরিচিত।
কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতি বছর এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির ও আবাসিক হলগুলোতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। রাত ৮টার পর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শুরু হয় মূল পূজা।

পূজা ঘিরে কেন্দ্রীয় মন্দিরের মণ্ডপজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। সহস্র প্রদীপের আলোয় আলোকিত পুরো প্রাঙ্গণ, ধূপের গন্ধে ভরে উঠেছে বাতাস। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে ভরপুর পুরো এলাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা হয় শিক্ষার্থী দিপু রায়ের সঙ্গে। এই শিক্ষার্থী নিজের লেখা গানের দুই চরণ তুলে ধরে শোনালেন পূজার মাহাত্ম্য।
দিপু বলেন, “কাঁদবি যখন ভুলে রে মন, মায়া মোহের কুট ছলনে, ঘোর আঁধারেও পাবিরে পথ, শ্যামা মায়ের শ্রীচরণে। এই শ্লোকের ভাবই আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মায়ের শ্রীচরণেই আলোর পথ।”

তিনি বলেন, “আজকের দিনটি আসলে দুটি ভাগে বিভক্ত- একদিকে শ্যামা পূজা, অন্যদিকে দীপাবলি। ‘দীপাবলি’ শব্দটি এসেছে ‘দীপ’ ও ‘আবলি’ থেকে। দীপের আলো যেমন অন্ধকার দূর করে, তেমনি মানবজীবনের ভেতরকার অন্ধকারও দূর করার আহ্বান জানায় এই উৎসব।
“মায়ের প্রতিমাতেও সেই বার্তা স্পষ্ট। গভীর কৃষ্ণবর্ণ দেহ মহাশূন্যের অসীমতার প্রতীক। মুণ্ডমালা রিপু বিনাশের প্রতীক। চরণে শিব চেতনার ওপর শক্তির প্রাধান্য বোঝায়, আবার শক্তি-চেতনার ঐক্যও প্রকাশ করে। আর জিহ্বা প্রসারিত; যা অহিংসা, বিনয় ও রসনা দমনের ইঙ্গিত বহন করে।”
অশুভ শক্তির বিনাশ করে জগতের কল্যাণ কামনাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে মনে করেন দিপু।

পূজা ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে। তবে সরকারি ছুটি না থাকায় স্বজনদের থেকে দূরে ক্যাম্পাসেই থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
প্রীয়ন্তি পণ্ডিত তুলি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বাড়ি থেকে দূরে পূজা কাটানোটা অন্যরকম অনুভূতি। বাবা-মা, ভাই-বোন ছাড়া উদযাপন করাটা মন খারাপ করায়, কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে এত সুন্দর আয়োজন হয়েছে যে, মনে হচ্ছে পরিবার এখানেই।
“ফানুস উড়ানো, সহস্র প্রদীপের আলো; সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজটা দারুণ লাগছে। আমাদের জড় জীবনের অন্ধকার কেটে যাক, আলোকিত হোক ধরা। সব কিছু মঙ্গলময় হোক।”

কেন্দ্রীয় মন্দির ছাড়াও আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দীপাবলি জ্বালানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে ফানুস, আলোকসজ্জা, রঙিন রংতুলির কারুকাজে যেনো উৎসব ছড়িয়েছে পুরো প্রাঙ্গণে।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী স্বজন রায় বলেন, “শ্রী-শ্রী শ্যামা পূজা ও দীপাবলিতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে আমরা প্রার্থনা করি- যেমন প্রদীপের আলো নিজের চারপাশ আলোকিত করে, তেমনি সূর্যের আলোতে জগতের অন্ধকার দূর হয়।
“আমাদের অন্তরের অন্ধকারও যেন পবিত্র আলোর স্পর্শে আলোকিত হয়। আমাদের এই পূজার প্রেরণা হোক শান্তি ও শুভবোধ জাগ্রত করা।”