Published : 01 Sep 2025, 04:16 PM
নোয়াখালীতে শহরের মাইজদীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানোর সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা নির্বাহী হাকিমের গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেন।
সোমবার বেলা ১২টায় দিকে নোয়াখালী জিলা স্কুলের সামনে শহরের প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী হাকিম মো. ফাহিম হাসান খানের নেতৃত্বে সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ির মালিক ও চালকরা সড়ক অবরোধ করে এবং নির্বাহী হাকিমের গাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে থেকে জানা গেছে, শহর মাইজদীতে বাস, প্রাইভেট কার ও মাইক্রো চালকদের জন্য সরকারিভাবে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে গাড়ি না রেখে জিলা স্কুলের সামনের প্রধান সড়কের পাশে এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখেন। এতে শহরজুড়ে যানজটের সৃস্টি হয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয়।
এ বিষয়ে প্রাইভেট কার ও মাইক্রো চালকদের একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তারা শোনেননি।
তবে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে কোনো নোটিস না দিয়েই দুপুরে আনসার সদস্যসহ একজন নির্বাহী হাকিম জিলা স্কুলের সামনের মাইক্রো স্ট্যান্ডে রাখা কয়েকটি গাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন।

পরে নির্বাহী হাকিকের নেতৃত্বে পৌর বাজারের সামনে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় পরিবহন শ্রমিক ও হকার-ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাহী হাকিমের গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে জানতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম মো. ফাহিম হাসান খানকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নির্বাহী হাকিমকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক দল পাঠানো হয়। তারা উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।