কোচকে দায় দিচ্ছেন না কান, জার্মানির সমস্যা ‘আরও গভীরে’
টাইব্রেকারে খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নিতে না চাওয়াটা জার্মান ফুটবলের লুকায়িত সত্য উন্মোচন করে দিয়েছে বলে মনে করেন দেশটির সাবেক এই গোলরক্ষক।
আবারও বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির আগেভাগে বিদায়ের জন্য কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানকে দোষ দিতে নারাজ দেশটির সাবেক গোলরক্ষক অলিভার কান। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই প্রধান নির্বাহীর মতে, জার্মান ফুটবলের সমস্যা আরও গভীরে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নিতে না চাওয়াটা তাদের দায়িত্ববোধের অভাব উন্মোচন করে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছিল জার্মানি। কিন্তু প্রথম ধাপেই শেষ হয়ে যায় তাদের পথচলা। শেষ বত্রিশে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারে নাগেলসমানের দল।
তারপর থেকে উত্তরসূরিদের তীব্র সমালোচনা করছেন সাবেক জার্মান ফুটবলাররা। বিশ্বকাপ থেকে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের জন্য নাগেলসমানকে দায়ী না করে কান বরং যুক্তি দিয়েছেন যে, কোচের ওপর মনোযোগ দিলে বৃহত্তর সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা হবে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে জার্মান ফুটবলে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
তিন জন ভিন্ন কোচের অধ্যায়ে জার্মানির বারবার ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন কান। ইওয়াখিম লুভের কোচিংয়ে ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হলেও, ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। হান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে ২০২২ সালেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয় তাদের। এবার নাগেলসমানের কোচিংয়ে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায়। তিন জনেরই কোচিংয়ের ধরন আলাদা, কিন্তু ফলাফল প্রায় একই। কানের মতে, ধারাবাহিক এই ব্যর্থতাই প্রমাণ করে যে, সমস্যাগুলো ডাগআউটের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়ের পর লিংকডইনে কান যুক্তি দেন যে, ভিন্ন ভিন্ন কোচের কোচিংয়ে বারবার ব্যর্থতা জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাও তুলে ধরছে।
“পরবর্তী জাতীয় কোচকে নিয়ে আলোচনায় মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছে। তিন জন জাতীয় কোচ একই জায়গায় ব্যর্থ হয়েছেন: ইওয়াখিম লুভ, হান্সি ফ্লিক ও ইউলিয়ান নাগেলসমান। তিনটি ভিন্ন কৌশল। তিনটি ভিন্ন কোচিংয়ের ধরন। ফলাফল একই... যদি ভিন্ন পদ্ধতির তিন জন কোচ একই জায়গায় ব্যর্থ হন, তাহলে এর কারণ আরও গভীরে নিহিত।”
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটের দুটি মিস করেন জার্মানির খেলোয়াড়রা। তারপরও টিকে ছিল তাদের সম্ভাবনা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অধিনায়ক ইয়োজুয়া কিমিখ কয়েক জন সতীর্থের সঙ্গে একে একে কথা বলছেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিন-চার জন সাডেন ডেথে পেনাল্টি কিক নিতে অস্বীকৃতি জানান। রাজি হন ইয়োনাথান টাহ, যিনি আগে কখনও শুটআউটে পেনাল্টি নেননি। উড়িয়ে মারেন এই ডিফেন্ডার। এই ধাপে প্রথম শটে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
কিমিখের ওই ঘটনাকেই জার্মানির বিদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন কান।
“যখন পেনাল্টি শুটআউট অতিরিক্ত সময়ে (সাডেন ডেথ) গড়াল, আপনারা দেখলেন ইয়োজুয়া কিমিখ কীভাবে শুটার খুঁজছিল। আমার মতে, এই বিদায়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত ছিল সেটি। একটি শীর্ষমানের দল সেই মুহূর্তে শুটার খোঁজে না। তাদের এমন খেলোয়াড় থাকে যারা নিজেরাই বল নিতে চায়।”
