কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ‘কেইরস ও ঘানা’
ঘানাকে হারাতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছক থেকে বের হবে না কলম্বিয়া, বললেন দলটির মিডফিল্ডার রিচার্ড রিওস।
গ্রুপ পর্বে বন্ধুর পথ মাড়িয়ে আসা কলম্বিয়ার সামনে আরেক কঠিন পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে তাদের লড়তে হবে ‘দুই’ প্রতিপক্ষের সাথে! কেবল ঘানা নয়, কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ যে, তাদের সাবেক কোচ কার্লোস কেইরসও, বর্তমানে যিনি আফ্রিকার দলটির দায়িত্বে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে, বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও ঘানা। ক্যানসাস সিটির এই ম্যাচ ঘিরে, আলাদাভাবে আলোচনায় কেইরস।
৭৩ বছর বয়সী এই কোচ, ২০১৯-২০২০ পর্যন্ত ছিলেন কলম্বিয়ার ডাগআউটে। যদিও তার সেই অভিজ্ঞতা ছিল ভীষণ তেতো। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ে ও একুয়েডরের বিপক্ষে হারের পর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
এরপর কয়েকটি দল সামলে, গত এপ্রিলে ঘানার হাল ধরেন কেইরস। অভিজ্ঞ এই কোচের হাত ধরে, তৃতীয় সেরা আট দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে দলটি।
ঘানার তুলনায়, কলম্বিয়া অবশ্য গ্রুপ পর্বে ছিল দাপুটে। নেস্তর লরেন্সোর কোচিংয়ে, রক্ষণ জমাট রেখে আক্রমণাত্মক খেলে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে, ‘কে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। অনেকের দৃষ্টিতে এটি ছিল, কঠিন গ্রুপগুলোর একটি।
প্রতিকূল স্রোত পেরিয়ে নকআউটে আশা কলম্বিয়ার চোখে এখন বড় স্বপ্নের আঁকিবুকি। ২০১৪ সালে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা বিশ্বকাপের মঞ্চে আজও তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে, ঘানা বাধা পেরিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান দলটির মিডফিল্ডার রিচার্ড রিওসের।
“আমাদের ধাপে ধাপে কাজ করে যেতে হবে। কেননা, আমি মনে করি, আমরা অনেক দূর যেতে পারি। প্রতিটি ম্যাচই ভীষণ কঠিন। পর্তুগালের চেয়ে ঘানা হয়ত ভিন্ন মাত্রার শারীরিক চ্যালেঞ্জ জানাবে।
“কিন্তু, আমরা প্রতিটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, যদি সেই মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারি, সামর্থ্যের সবটুকু মেলে ধরতে পারি, তাহলে ম্যাচটা প্রতিপক্ষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এটাই আমরা করব-নিজেদের খেলাটা খেলব এবং জয়ের চেষ্টা করব।”
বিশ্বকাপে ঘানার এখন পর্যন্ত সেরা সাফল্য ২০১০ সালে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা। ষষ্ঠবারের মতো কোচ হিসেবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আসা কেইরসের হাত ধরে, তারা মুখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অর্জন ছাপিয়ে যেতে। দলটির অধিনায়ক জর্ডান আইয়ুর কণ্ঠেও তা প্রতিধ্বনিত হলো।
“সবার সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং এই আনন্দ অনুভব করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর ধরে, দলে এর অভাব ছিল এবং এখন সেটা ফিরিয়ে আনতে পারার অনুভূতিটা দারুণ।”
