Published : 13 Jul 2026, 09:26 PM
ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের এক নেতাকে কারা ফটকের সামনে থেকে পঞ্চমবারের মত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মহানগর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠান প্রায় সাড়ে ছয় মাস ধরে কারাগারে আছেন।
রাসেলের আইনজীবী সেকান্দার আলী সোমবার বিকালে বলেন, রোববার রাত ১০টায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর পরই ফটকে তাকে আবার গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাসেল পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। তিনি নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার আব্দুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে।
আইনজীবী দাবি করেন, কারাগারে থাকাকালে ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট পিটিশন নম্বর ৮৫৮১ এর শুনানি শেষে একটি আদেশ দেন। ওই আদেশে আদালত বিবাদী পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে যেন আর কোনোভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার দেখানো না হয়।
হাই কোর্টে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু শুনানি করেন।
রাসেল পাঠানের আইনজীবী সেকান্দার আলীর অভিযোগ, রোববার বিকালে রাসেলের জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। পরে রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে ফের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
নগরীর কাশর এলাকার অরুন মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বাদী হয়ে ১২ জুলাই রাতে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বিস্ফোরক মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩ অগাস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর বাতিরকল মোড়ে বাদী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রাসেল পাঠানের মা জোবেদা খাতুনের ভাষ্যমতে, “হাই কোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুলিশ ২০২৪ সালের পুরনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে নতুন মামলা করল। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি অবিচার এবং আদালতের আদেশের প্রতি চরম অবজ্ঞা। এর আগে আমার ছেলেকে চারবার কারাফটক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
রাসেলের আইনজীবী সেকেন্দার আলী বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষ করে, যখন উচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে; তখন তা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, “আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পুলিশ ছাড়া জনসাধারণ বিস্ফোরক আইনে মামলা করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মামলা করতেই পারেন।