কুমিল্লায় যুবক হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

২০২০ সালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফসয়লকে ফোনে ডেকে শ্বাসরোধের পর গলা কেটে হত্যা করে লাশ মাঠে পুঁতে রাখেন শামীম ও তার বন্ধু দুলাল।

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 10:17 AM
Updated : 1 April 2024, 10:17 AM

চার বছর আগে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় শ্বাসরোধের পর গলা কেটে হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

কুমিল্লার চতুর্থ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দুই আসামির উপস্থিতিতে সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শেখ মাসুদ ইকবাল মজুমদার জানান। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হোমনা উপজেলার মো. শামীম মিয়া (২৪) এবং একই উপজেলার সাফলেজি গ্রামের মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলাল (২০)। 

রায়ে ফাঁসির পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

মামলার নথি থেকে জানান যায়, নিহত ফয়সলের সঙ্গে শামীমের বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যা মেনে নিতে পারছিলেন না শামীম। পরে শামীম ফয়সালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। 

২০২০ সালের ৫ জুন ফয়সাল তার মামার বাড়ির ছাদে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। পূর্ব  পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ সময় তার মোবাইলে শামীম ফোন করে তাকে আমিরুল ইসলাম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের যাওয়ার জন্য বলে। 

ফয়সল কাউকে কিছু না জানিয়ে সেখানে চলে যায়। এ সময় প্রথমে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফয়সলকে হত্যা করে লাশ ওই বিদ্যালয়ের মাঠে পুঁতে রাখেন শামীম ও তার বন্ধু দুলাল। 

ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফিরায় ফয়সলকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। পরদিন ফয়সলের বাবা মকবুল হোসেন বাদী হয়ে হোমনা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। তখন তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মো. শামীম সরকার। 

তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সলের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক করা হয়। এ সময় শামীমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। 

পরে তার দেখানো স্থানে মাটির নীচ থেকে ফয়সলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শামীমের এ কাজে দুলাল সহযোগিতা করে বলে জানালে পুলিশ দুলালকেও আটক করে।

এ ঘটনায় নিহত ফয়সলের বড় বোন সালমা আক্তার বাদী হয়ে শামীমকে প্রধান আসামিসহ কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে হোমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর গ্রেপ্তার শামীম ও দুলালকে আদালতে তোলা হলে উভয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সোবার তাদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল।