Published : 18 Mar 2026, 10:41 PM
ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় মোট ৬৬ জন আহত হয়েছেন বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বুধবার রাতে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছয়জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খানম বলেন, “সান্তাহার রেল স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই ট্রেনে মোট ১৩টি বগি ছিল। তার মধ্যে নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। প্রতিটি বগিতে ৬২ জন যাত্রী ছিল।
“এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে বগির ভিতরে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ছাদেও অনেক যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ছাদ থেকে যারা লাফিয়ে পড়েছিলেন, তারাই মূলত আহত হয়েছেন।”
সব মিলে ট্রেনটিতে কত যাত্রী ছিলেন তা বলতে পারেননি স্টেশন মাস্টার।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা যে যার মত করে গন্তব্যে চলে গেছেন। কেউ কেউ অটোরিকশা নিয়ে জয়পুরহাট এবং বগুড়ার দিকে গিয়েছেন। সেখান থেকে বাস ধরে তারা গন্তব্যে যাবেন।
স্থানীয় একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, “দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী ছাদে ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ লাফিয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ নামতে পারেননি। পরে আমরা মই এনে একশ জনের মত যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামাইছি। ভয়ে লাফ দিয়ে ছাদ্র থেকে নামতে গিয়ে একজনের পা কাটা পড়ছে। দুজনকে বের করে দেওয়া হইছে। খুব চিল্লাচিল্লি হইছিল।”
একই এলাকার আরেক যুবক বলেন, “অনেক যাত্রী আহত অবস্থায় চলে গেছেন। তাদের ব্যাগ ও মালপত্র ফেলে গেছেন। সেগুলো আমরা মসজিদে নিয়ে হেফাজতে রেখেছি। পরে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তাদের মালামাল দিয়ে দেওয়া হবে।”
ট্রেনের যাত্রী জয়পুরহাট জেলার আবু তালেব বলেন, “লাইন সংস্কার করছে এটা স্টেশন মাস্টার, চালককে জানতে হবে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি। জয়পুরহাট কাছে কিন্তু শত শত যাত্রী কিভাবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছাবেন।”
নীলফামারীর যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “বগুড়া থেকে নীলফামারীতে যাব; কিন্তু কোনো বাসে সিট নেই। স্বল্প আয়ের মানুষ আমরা। রেল কতৃপক্ষ কোনো ব্যাবস্থা করল না। আমার মত অধিকাংশ যাত্রীর অবস্থা একই।”
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাচ্ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার স্টেশনে থামে। সেখান থেকে ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
কিছু সময় পর আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়।
ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল আদমদীঘির বাগমারি এলাকায় এসে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
সেখানে দায়িত্বরত একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাত্র কাজ শুরু হল। বগিগুলো লাইনে তুলতে তুলতে সারারাত লেগে যেতে পারে। বগি তুলে লাইন ক্লিয়ার করতে করতে হয়ত (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯-১০টা বেজে যেতে পারে।”
ঈদযাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা; বিশেষ করে যারা রাতে যাত্রা করবেন তারা ভ্রমণ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন।
কারণ বগুড়ার সান্তাহার জংশনের যে জায়গায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে সেই পথ ধরেই উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলোকে চলাচল করতে হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই পথ দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় যাত্রীদের ঈদযাত্রার কথা ভেবে বিকল্প পদ্ধতিতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গে পথে ট্রেন চলানোর কথা জানিয়েছে।
তারা বলছে, পঞ্চগড় থেকে আসা এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে একে অপরের ট্রেনে উঠে যাত্রা সম্পন্ন করবেন।
ঈদের মধ্যে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু, 'সারারাত লাগবে'
নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: সান্তাহারে ট্রেন বদলে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা
বগুড়ায় নীলসাগর লাইনচ্যূত: তদন্তে চার সদস্যের কমিটি
'লাইন সংস্কার চলছিল, তখনই ঢুকে পড়ে ট্রেন'