Published : 10 Jul 2026, 01:02 PM
প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেও রেকর্ড অষ্টমবারের মতো ফ্রান্সকে সেমি-ফাইনালে তোলেন কিলিয়ান এমবাপে। দলের এমন রেকর্ডের দিনে নিজেও কম যাননি। লিওনেল মেসির রেকর্ডে ভাগ বসানোর পাশাপাশি একটি রেকর্ডে তাকে ছাড়িয়েও গিয়েছেন।
এছাড়া একটি রেকর্ডে ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদোর পাশে বসেছেন এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে।
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে হওয়া সেসব রেকর্ডই তুলে ধরা হলো-
১.৮৭
মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের এক্সজি (এক্সপেক্টেড গোল) ছিল ১.৮৭। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমার্ধে গোল করতে ব্যর্থ এমন দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
২
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুকে পেরিয়ে কেবল দুটি স্পট কিক জালে গেছে। টাইব্রেকারসহ মোট নয়টি স্পট শট কিক নেন প্রতিপক্ষের ফুটবলাররা। এর চারটি সেভ করেন বোনু, তিনটি হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি চার পেনাল্টি শট আটকানোর রেকর্ড গড়েছেন।
২
বিশ্বকাপে শেষ ৬০ বছরে মাত্র চারবার কোনো ম্যাচে একজন ফুটবলার গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন এবং পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেন। এই চার ঘটনার দুটি ঘটেছে তিন দিনের ব্যবধানে! মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পর মরক্কো ম্যাচে এর পুনরাবৃত্তি করলেন এমবাপে।
৩
তৃতীয়বার বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন এমবাপে। শেষ ৬০ বছরে তার চেয়ে বেশিবার একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট আছে কেবল মেসির (৫ বার)।
৩
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। তৃতীয় দেশ হিসেবে এই কীর্তি গড়বে। এর আগে জার্মানি ও ব্রাজিল টানা তিনবার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলেছিল।
এর মধ্যে জার্মানি টানা তিন বা এর চেয়ে বেশিবার সেমি-ফাইনাল খেলেছে দুইবার- (২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারবার; ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত টানা তিনবার)। আর ব্রাজিল ১৯৯৪ থেকে ২০০২ টানা তিনবার সেমিফাইনালে খেলেছিল।
এছাড়া যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। তাদের সমান শেষ চারে খেলেছে ব্রাজিল। সর্বোচ্চ ১২ বার খেলেছে জার্মানি।
৫
বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে। সবগুলো গোলই করেছেন চলমান আসরে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেললেও ওই দুই আসরে কোনো গোল করতে পারেননি।
৬
বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন রেফারির পরিচালনা করা ষষ্ঠ ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স, এটা ইতিহাসে যে কোনো দেশের পক্ষেই সর্বোচ্চ।
৮
বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফের লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। দুইজনের গোলসংখ্যা সমান হওয়ায় এখন বিবেচনায় আসছে অ্যাসিস্ট সংখ্যা। এমবাপের তিন অ্যাসিস্টের বিপরীতে মেসির অ্যাসিস্ট একটি।
৮
বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে জয়সূচক গোল এসেছে এমবাপের পায়ে। বিশ্ব আসরে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য যা সর্বোচ্চ।
৮ ও ৫
২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো ও রিভালদো জুটি করেন ১৩ গোল। সেখানে রোনালদো করেন ৮ গোল আর রিভালদো করেন ৫টি। ২০০২ সালের পর প্রথমবার কোনো দেশের দুইজন পাঁচ বা এর বেশি গোল করল। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপে (৮) ও দেম্বেলে (৫) দুজনই পাঁচ বা এর বেশি সংখ্যক গোল করলেন।
২৩
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে সম্মিলিতভাবে ২৩ গোলে অবদান রেখেছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পথে রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহো সম্মিলিতভাবে ২০ গোলে অবদান রাখেন।
১০+
১৯৬৬ সালের পর থেকে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুই বিশ্বকাপে ১০ বা তার অধিক গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপে। কাতার বিশ্বকাপে ১০ গোলের পর চলমান আসরে অবদান রেখেছেন ১১ গোলে।
১১
১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মানির জার্ড মুলার সবশেষ ১৩ গোলে অবদান রেখেছিলেন। এবার এরই মধ্যে ১১ গোলে অবদান রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপে। মুলারের ওই কীর্তির পর যা সর্বোচ্চ।
১৪
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১৪ গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপে। শেষ ৬০ বছরে মেসির সঙ্গে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
১৫
এবার মিস করার আগে ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি স্পট কিকে জালের দেখা পান এমবাপে। সবশেষ ২০২০ ইউরোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেন তিনি।
১৮
মরক্কোর আয়ুব বুয়াদি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মাঠে নামেন। পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শেষ আটে খেলেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের (১৭ বছর ২৩৯ দিন)।
২০
বিশ্বকাপে ২০ গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে। সবার উপরে থাকা মেসির গোল ২১ টি।
২০
বিশ্বকাপে দিদিয়ে দেশোঁর কোচিংয়ে ২০তম ম্যাচ খেলেছেন এমবাপে। একই কোচের অধীনে কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলারের যা সর্বোচ্চ।
৪৫
বিশ্বকাপে ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৪৫ জয় পেয়েছে ফ্রান্স। সবার উপরে থাকা ব্রাজিলের জয় ৭৯ ম্যাচে। পরের দুই অবস্থানে আছে জার্মানি (৭০) ও আর্জেন্টিনা (৫২)।
১০১
প্রথম ফরাসি ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে শতাধিক গোলে অবদান রেখেছেন এমবাপে (৬৪ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট)।