Published : 10 Jul 2026, 12:53 PM
বলা হয়, ফুটবল কোচ হয়ে থাকে দুই ধরনের- যারা চাকরি হারিয়েছে এবং যারা চাকরি হারাতে চলেছে। মজা করে বলা হলেও ফুটবল কোচদের কঠিস বাস্তবতাই ফুটে ওঠে এতে। দিদিয়ে দেশোঁ সেখানে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দুই বছরের চুক্তিতে শুরু হয়েছিল তার পথচলা। সেই দায়িত্বে এখন কাটিয়ে দিলেন ১৪ বছর!
বলার অপেক্ষা রাখে না, সাফল্য ধরা দিয়েছে বলেই এত লম্বা টিকে গেছেন এত লম্বা সময়। তার দল এখন টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার দুয়ারে। তবে সাফল্যযাত্রায় নিজের কৃতিত্ব খুব একটা দেখেন না তিনি। ৫৭ বছর বয়সী কোচ বললেন, ফুটবলারদেরই অর্জন এসব।
মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে হেরেছিল আর্জেন্টিনার কাছে। ২০১৮ আসরে জিতেছিল শিরোপা। সবই দেশোঁর কোচিংয়েই।
২০১২ সালের জুলাইয়ে তিনি দায়িত্ব পান। মেয়াদ ছিল তখন দুই বছর। পরে তা দফায় দফায় বাড়তে থাকে। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। তবে দেশোঁর ওপর আস্থা হারায়নি ফরাসি ফেডারেশন। ২০১৬ ইউরোতে ফাইনালে হেরে যায় পর্তুগালের কাছে। দেশোঁ দায়িত্বে রয়ে যান। তার হাত ধরেই ২০ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে ফ্রান্স ২০১৮ আসরে।
কোচ হিসেবে তার সাফল্যে অনেকের হয়তো মনেও থাকে না, ফুটবলার হিসেবেও কতটা দারুণ ছিলেন দেশোঁ। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ছিলেন তিনি, এই পজিশনে ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরাদের একজন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জিতে ইতিহাস গড়া দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনিই।
এবারও ফাইনালে উঠলে ও চ্যাম্পিয়ন হলে ইতিহাসের নতুন দুয়ার খুলবেন দেশোঁ। তবে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের পর কোচ বললেন, কৃতিত্ব ফুটবলারদেরই।

“ভালো দল, ভালো ফুটবলার থাকাটা অপরিহার্য। একটি দলের সাফল্য ফুটবলারদের মাধ্যমেই আসে। যদিও কিছু কাজ নিশ্চয়ই আমিও ঠিকঠাক করছি। তবে ওরাই আসল কাজ করে। আজকে যেমন, ফলাফলের বাইরেও, ওয়াহেন (জাইয়ের-এমেরি)-এর মতো ফুটবলার, এর আগে যে এক মিনিটও খেলেনি, মাঠে নেমেই দুর্দান্ত প্রভাব রেখেছে।
এটা একটা মানবিক অভিযানও বটে। আমিই ওদের বেছে নিয়েছি, এবং প্রতিদিন পরম আনন্দের সঙ্গে ওদের পাশে থাকি।”
২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে এবার পর্যন্ত কখনও অভাবনীয় প্রাপ্তি, কখনও প্রত্যাশা পূরণের যে ভ্রমণ, সেটির তুলনাও করলেন কোচ। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, সেমি-ফাইনালে উঠেই তারা তৃপ্ত নন মোটেও।
“২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় কি পরিবর্তন এসেছে? ২০১৮ আসরে আমাদের সফল হওয়ার আশা কেউই করেনি। ২০২২ আসরে আমরা ছিলাম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এবং অনেকবারই দেখা গেছে, আগেরবারের চ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলো থেকেই বাদ পড়ে যায়। এবার, টুর্নামেন্টের প্রথমবার ল মাঠে গড়ানোর আগেই সবাই আমাদের (জয়ের) আশা করছিল।
“তবে আমার ছেলেরা এতে অভ্যস্ত এবং এখনই ওরা আত্মহারা হবে না। এই মুহূর্তে আমরা ১৪ই জুলাইয়ের (সেমি-ফাইনালের দিন) বাইরে কিছু ভাবছি না।”
সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেন কিংবা বেলজিয়াম।