Published : 26 May 2026, 11:17 AM
পরিবারের সঙ্গে কোরবানির ঈদ কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার ট্রাক উল্টে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। কিন্তু তাতেও থামছে না ট্রাকে-পিকআপে করে ঈদযাত্রা।
মঙ্গলবারও গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বাস না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক-পিকআপে নিজ নিজ গন্তব্যে রওয়ানা হতে দেখা গেছে।
সড়ক নিরাপত্তা ও আইন অনুযায়ী মহাসড়কসহ সব ধরনের রাস্তায় ট্রাকে (পণ্যবাহী যানবাহন) যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও প্রশাসনের পক্ষে তা থামানো সম্ভব হচ্ছে না ।

মহাসড়কের নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সওগাত আলম বলেন, সড়কে গাড়ির চাপ রয়েছে। এর মধ্যেই বাসের সিট না পেয়ে অনেকেই ট্রাক বা পিকআপে উঠছেন। আইন অমান্য করে এভাবে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রীবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের নজরে আসলেই আমরা বাধা দিচ্ছি। তবুও পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।“
সরেজমিন গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস সড়ক, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টাঙ্গাইল-ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ, থেমে থেমে যানজট হচ্ছে, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কে প্রচুর বাস আছে কিন্তু তাতে প্রয়োজনীয় সিট পাচ্ছে না যাত্রীরা। অনেকে অভিযোগ করেছেন বাড়তি ভাড়া নিয়ে।
গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস পেয়ারা বাগান এলাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা হল পরিবার নিয়ে ট্রাকে চড়ে সিরাজগঞ্জে রওয়ানা হওয়া আব্দুস সালাম মিয়ার সঙ্গে।
তিনি বলেন, “স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষায় বসে আছি, কিন্তু বাসে সিট নাই। আর বাসের ভাড়াও অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে এখন ট্রাকে করে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।”
ট্রেন-বাসের টিকিট না পাওয়ায় ট্রাকে করে রংপুরের বাড়িতে ফিরছেন পোশাক শ্রমিক সুমনা। তিনি বলেন, “কষ্ট করে বাড়িতে গেলেও আফসোস নেই। পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করার থেকে আর বড় আনন্দ নেই।”
স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে চন্দ্রা থেকে ফুলপুর যাবেন লাবলু মিয়া। তিনি বলেন, “আমি কোনো বাসেই সবার সিট পাচ্ছি না, আবার বাসের ভাড়া অনেক বেশি। তাই এখন পিকআপে করেই সবাইকে নিয়ে দেশে যাচ্ছি।”

রংপুর থেকে গরু নিয়ে নরসিংদী গিয়েছিলেন ট্রাক ড্রাইভার রবিন। ফেরার পথে নিজের খালি ট্রাকে যাত্রী তোলার ফাঁকে তিনি বলেন, “রাতে গরু নামিয়ে দিয়ে সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়ক এসে দেখি ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তাই এখন ট্রাকে করে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি। মানুষও বাড়ি যেতে পারল, আমারও দুইটা পয়সা ইনকাম হল। ”
বৃষ্টিতে দুর্ভোগ
পরিবারের সঙ্গে একত্রে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তাতে তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বৃষ্টি।
সোমবার মধ্যরাত রাতে মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। পরে মঙ্গলবার ভোরেও বৃষ্টিতে শরীরের কাপড়সহ অনেকের টাকা, মোবাইল ও মালামাল ভিজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বেশি।
যানজট-ধীরগতিতে ভোগান্তি
সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিনে গাজীপুরের বেশির ভাগ তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় যানবাহন ও শ্রমজীবী মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। এতে ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

পুলিশ বলছে, এবার ঈদে ২০ লাখের বেশি শ্রমজীবী মানুষ গাজীপুর ছাড়বেন।
এতে টঙ্গী, গাজীপুরা থেকে বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কবীরপুর থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস ও সফিপুর থেকে চন্দ্রা অংশে গাড়ির চাপ গত কয়েকদিন তুলনায় বেশি বেড়েছে। এতে এই পয়েন্ট দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলছে না, সৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে যানজটের।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পার্কিং, যত্রতত্রভাবে যাত্রী উঠানামা ও মানুষের জটলা থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ভোরে গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ব্রিজের উপর সড়ক দুর্ঘটনায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তার প্রভাব পড়ে সকাল পর্যন্ত।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি এস এম আশরাফুল আলম বলেন, সোমবার ৪৫ ভাগ কারখানা ছুটি হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর ছুটি হবে ৪৭ ভাগ। এতে দুপুরের পর মহাসড়কে মানুষের ঢল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়বে।
“তবে আমরা যানজট নিরসন ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অতিরিক্ত পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ”