Published : 15 Jan 2026, 01:22 PM
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সদর উপজেলার পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত ব্যক্তির নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী মামলাটি দায়ের করেন।
এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানকে শরীয়তপুর শহর থেকে করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পাশের স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করায় মুমুর্ষু রোগী ও স্বজনদের দেড়ঘণ্টা পথ আটকে হেনস্তার অভিযোগ উঠে; পরে সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।
সেই রোগীর লাশ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় নিয়ে যান স্বজনেরা।
মৃত ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী; বয়স ৭০। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।
জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, মঙ্গলবার তার নানা অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ৬ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করেন। কিন্তু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স ওঠানোর পর চালক ১ হাজার টাকা বেশি দাবি করেন। তখন তারা ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স ৫ হাজার টাকায় ভাড়া করে রওনা হন।
রোমানের অভিযোগ, এরপর স্থানীয় ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের’ সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন। ওই সময় রোগীর স্বজন ও চালককে দুই দফায় ‘লাঞ্চিত করেন’।
রোগী বহনকারী ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সটির চালক সালমানের অভিযোগ, “শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে আমাদের লাঞ্চিত করে।
“পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা ঢাকার হাসপাতালের পথে রওনা দেই। এরপর পথের মধ্যে রোগীটি মারা যায়।”
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যাম্বুলেন্সগুলোর কাগজপত্র যাচাই এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় দিায়ের করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন-চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শাহ আলম।
স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স 'না নেওয়ায়' দেড় ঘণ্টা হেনস্তা, পথেই মারা গেল রোগী