Published : 08 Jun 2026, 03:38 PM
কেবল স্বার্থের টানেই মেটাসহ সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ কিছু প্রযুক্তি কোম্পানি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘মাগা’ রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও মেটার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিক ক্লেগ।
তিনি বলেছেন, মেটাসহ সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ‘মাগা’ রাজনীতিকে আপন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি’।
ব্রিটিম সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রাতিবেদনে লিখেছে, মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান হিসেবে প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ক্লেগ।
‘রেস্ট ইজ মানি’ নামের পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন শুরু হওয়ার তিন মাস পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চে কোম্পানিটি ছাড়ার সময় তার মনে হয়েছিল মেটা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই ‘একদম সঠিক সময়’।
ক্লেগ বলেছেন, যেসব নির্বাহী আগে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেন তারাই এখন ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন পণ্যের চরিত্রও ‘পুরোপুরি বদলে গেছে। এগুলো এখন আর মানুষ-কেন্দ্রিক নেই, বরং অনেক বেশি কনটেন্ট নির্ভর, যার বড় অংশই কৃত্রিম বা সিন্থেটিক কনটেন্ট এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার কোম্পানি ‘প্যালান্টির’-এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্লেগ।
মার্কিন এ স্পাইওয়্যার কোম্পানির আদর্শের প্রতি নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্লেগ বলেছেন, ‘প্যালান্টির গ্রাহকদের নিজের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল করে তুলছে কি না’ তা নিয়ে যথেষ্ট যুক্তিসংগত উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্যালান্টিরের বিভিন্ন চুক্তি গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি কমিটির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ‘অল্প কিছু বড় প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ওপর সরকারি খাতের ক্রমাগত নির্ভরশীলতার সবচেয়ে উদ্বেগজনক উদাহরণ’ হচ্ছে প্যালান্টির।
২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ বা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের সঙ্গে প্যালান্টিরের একটি চুক্তি হয়, যার আওতায় হেলথ সার্ভিসের ডেটা প্যালান্টিরের কাছে সংরক্ষিত থাকার কথা। এই চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত হলেও ২০২৭ সালে উভয় পক্ষেরই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কমিটি সরকারকে ২০২৭ সালে প্যালান্টিরের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই লন্ডনের ‘এসএক্সএসডব্লিউ’ কনফারেন্সের এক অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং প্যালান্টিরের নির্বাহীদের জেমস বন্ড সিরিজের কুখ্যাত ভিলেন ‘ব্লফেল্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য তথ্যের সুরক্ষায় প্যালান্টিরের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে চুক্তিটি বাতিল করা উচিত কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানের কথা উল্লেখ করে ক্লেগ ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্যালান্টির খুব সহজেই এআইকেন্দ্রীক কোনো প্রতিদ্বন্দীর মাধ্যমে ‘চ্যালেঞ্জ বা বিপর্যয়ের’ মুখে পড়তে পারে।
প্যালান্টির নিজেদের এআই সক্ষমতার ব্যাপক প্রচার চালালেও তাদের মূল সেবা এমন কিছু সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কর্মপ্রক্রিয়ার ডেটাকে একসূত্রে গাঁথে। এগুলো এখন এআই ব্যবহার করলেও প্যালান্টির নিজে কোনো মৌলিক এআই মডেল তৈরি করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্লেগের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির জেরে তার পূর্বসূরি এলিয়ট শ্রাগ পদত্যাগ করার পর মেটা’র লবিয়িস্ট হিসেবে ক্লেগ নিয়োগ পেয়েছিলেন।
মেটাতে থাকাকালীন ক্লেগ সেই কেলেঙ্কারির ক্ষতি সামাল দিয়েছেন এবং মেটার কনটেন্ট মডারেশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদারকির জন্য বিশেষ পর্ষদ গঠন করেন।
ক্লেগ মেটাতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন আগেই সেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন সারাহ উইন-উইলিয়ামস। এর আগে তিনি মেটার জননীতি পরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোম্পানিতে কাটানো তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘কেয়ারলেস পিপল’ নামে এক হুইসেলব্লোয়িং বা তথ্যফাঁসকারী বই লেখেন।
বইটিতে তিনি মেটার নির্বাহীদের একের পর এক ভুল, দূরদর্শিতাহীন ও ‘মারাত্মকভাবে অসতর্ক’ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিবরণ দিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্সরশিপ বা তথ্য সেন্সর করার বিষয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে গোপনে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ এবং কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সদস্যের মাধ্যমে যৌন হয়রানির ঘটনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।