Published : 14 Jan 2026, 07:32 PM
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পাশের স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করায় মুমুর্ষু রোগী ও স্বজনদের দেড়ঘণ্টা পথ আটকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে; পরে সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছে।
সেই রোগীর লাশ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় নিয়ে যান স্বজনেরা। এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মারা যাওয়া সেই ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৬০)। তার বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায়।
জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, মঙ্গলবার তার নানা অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ৬ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করেন। কিন্তু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স ওঠানোর পর চালক ১ হাজার টাকা বেশি দাবি করেন। তখন তারা ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স ৫ হাজার টাকায় ভাড়া করে রওনা হন।
তার অভিযোগ, এরপর স্থানীয় ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের’ সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন। ওই সময় রোগীর স্বজন ও চালককে দুই দফায় ‘লাঞ্চিত করেন’।
রোগী বহনকারী ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সটির চালক সালমানের অভিযোগ, “শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে আমাদের লাঞ্চিত করে।
“পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা ঢাকার হাসপাতালের পথে রওনা দেই। এরপর পথের মধ্যে রোগীটি মারা যায়।”
জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের বলেন, “স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা যাওয়ার পথে দুটি স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে ঢাকায় পৌঁছালেও হাসপাতালে পৌঁছাতে পারিনি, তার আগেই আমার নানা মারা গেছেন।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, “সকালের দিকে বয়স্ক এক লোক স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।”
রোগী হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুরের অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক সুমন খান বলেন, “ঢাকায় চলাচল করে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী ওঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম চালকের কাছে। এর বেশি কিছু নয়। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি। এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “অভিযোগটি মৌখিক হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তারা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এর আগে গত বছরের ১৪ অগাস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ওঠানোর কারণে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সেটি আটকে রাখেন। তখন ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা এক নবজাতক মারা যায়।
ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা পালং মডেল থানায় ১৬ অগাস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক চালক আবু তাহের, তার ছেলে সবুজ দেওয়ানসহ চারজনের নামে মামলা করেন। নাম না জানা পাঁচ-ছয়জনকেও আসামি করা হয়।