Published : 26 Mar 2026, 07:26 PM
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবন্ত বাস থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে পারলেন, তা ঠিকঠাক নিজেও জানেন না রাজীব সরদার। তবে বাসের জানালা দিয়ে ঢোকা পানির জোরালো স্রোত তাকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে, এটুকু তার স্পষ্ট মনে আছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চত্বরে ২৭ বছর বয়সী রাজীব বলছিলেন মরতে মরতে বেঁচে ফেরার গল্প।
বুধবার সৌহার্দ্য পরিবহনের যে বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়, সেটি যাত্রা করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। রাজবাড়ী সদরের বাসিন্দা রাজীব বাসটিতে উঠেছিলেন গোয়ালন্দের জামলতা এলাকা থেকে; তার যাওয়ার কথা ছিল ঢাকায়।
একেবারে পেছনের দিকের একটি আসনে বসা রাজীব দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে পড়ে যান।
ভয়াবহ সেই সময়ের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “পড়ে যাওয়ার পরে বাস তখন তো পানির নিচে। পানির নিচে থাকার কারণে আমার গায়ের ওপরে প্রায় বারো-তেরোজন পড়ছে।

“আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি… পানির মধ্যে আমার গায়ের ওপরে যখন পড়ছে, পড়ার কারণে তখন মনে করেন যে আমি… করতে পারতেছি না।
ওই সময় বাসের জানালা ধরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেন রাজীব।
তিনি বলেন, “জানালা ধরার পরে আরও একজন না দুইজন… একজন পিঠের উপরে দাঁড়াইছে, একজন ঘাড়ে উঠছে। তাই মনে করেন যে আমি সামনে দিয়ে না যাইয়া… বাস যখন তলায় যাচ্ছে।”
সে সময় হঠাৎ পানির স্রোতের সহায়তা পান রাজীব। তিনি বলেন, “বাস যখন ডাইবে গেছে পানির নিচে, তখন বাসের যে একটা ভুম করে জানালা দিয়ে পানির একটা স্রোত আসতেছিল উপরের দিকে। উপরের দিকে ওঠার কারণে আমি ওই পানির স্রোত ধইরাই উপরে উঠি।
“পরে যখন দেখলাম যে বাসের ভেতর থেকে বের হইছি। তারপর আমি ওই স্রোতের কারণে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে উঠতে, ইনশাল্লাহ আমি উপরে উঠে যাই আরকি।”

রাজীব বলেন, “কোন জায়গা দিয়ে বের হইছি বা কীভাবে বের হইছি আমি নিজেও জানি না। এই হচ্ছে কাহিনী।”
পানি থেকে পন্টুনে উঠে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন রাজীব। পরে ভাইকে ফোন দিলে তিনি এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।
রাজীবের দাবি, বাসটির চালক নেমে চা খেতে যাওয়ার সুযোগে চালকের সহকারী বাসটির স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন।
তবে বাসে চালকের মরদেহ পাওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কথা শুনে চালক ‘স্ট্রোক করে’ মারা গেছে বলে তিনি শুনেছেন।
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ির ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
কুষ্টিয়া থেকে রওয়না হওয়া বাসটি দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছিল। এতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল বাসটি। হঠাৎ এটি চলতে শুরু করে এবং পন্টুন পেরিয়ে উল্টে পদ্মায় পড়ে; সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে যায় নদীতে।
ডুবন্ত বাসটি থেকে কয়েকজন সাঁতরে বের হতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রী আটকা পড়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নদী থেকে মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন
বাসের ভেতর থেকে খায়রুলের বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা
দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি: জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ান, মা ও ভাগনেকে পাশাপাশ দাফন
দৌলতদিয়া দুর্ঘটনা: খোঁজ মেলেনি জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ানের, মারা গেছ
দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি: প্রাণ গেল যাদের
দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬
বিষাদের ফিরতি যাত্রা, পদ্মায় যাত্রীবাহী বাস ডুবে প্রাণহানি
'আমারে একলা রাইখা চইলা গেলা, আমি এখন কী করমু'
দৌলতদিয়া দুর্ঘটনা: খোঁজ মেলেনি জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ানের, মারা গেছেন মা
দৌলতদিয়ায় বাস তোলার সঙ্গে সঙ্গে লাশও বাড়ছে, নিহত বেড়ে ১৫
দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি: আরও ২ লাশ উদ্ধার
দৌলতদিয়ায় ডুবে যাওয়া বাসটি তুলে আনছে 'হামজা'
দৌলতদিয়ায় বাসটি পদ্মার ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে: ফায়ার সার্ভিস
চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানসহ বাসটি পদ্মায় ডুবতে দেখেন নুরুজ্জামান
দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনার পর ঝড়-বৃষ্টি, উদ্ধারকাজ ও ফেরি ব্যাহত