Published : 26 Mar 2026, 01:01 AM
“কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই; আমার ডিউটি আছে। বউ কয় না তুমি একলা একলা যাইবা। তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে একলা রাইখা চইলা গেলা, আমি এখন কী করমু।”
বুধবার বিকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ৩ নম্বর পল্টুন থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে সাঁতরে তীরে ওঠা যাত্রী আবদুল আজিজুল স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে এভাবে বিলাপ করছিলেন।
নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক যাত্রী।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যাওয়ার পর সাঁতরে তীরে ওঠেন আবদুল আজিজুল। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি মোবাইল ফোনে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের জানাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় সময় টিভিতে ধারণ করা ভিডিওতে তার আহাজারির চিত্র উঠে আসে।
বিলাপ করতে করতে আবদুল আজিজুল বলেন, “পাটুয়ারি ফেরি ঘাটে গাড়িসহ পানিতে পইড়া গেছে, আপনার মাইয়োরে বাঁচাইতে পারি না, আপনার নাতিনরে বাঁচাইতে পারি নাই। আপনার বইনরে বাঁচাতে পারি নাই।
“কতো করে কইলাম আব্দুর রহমানের মা তোমরা বাড়িতে থাকো, আমি যাই, আমার ডিউটি আছে। ২৯ মার্চ আমার ডিউটি। বউ কয় না, তুমি একলা একলা যাইবা। তোমরা বাড়ি থাকো, বউ শুনলো না।
“বউ বলে, আব্দুর রহমানের বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। তোমার সাথে আমি যামু। আমি এখন কেমনে কী করুম; কেমনে বাঁচমু?”
নদীর তীরে কাঁদতে কাঁদতে আবদুল আজিজুল বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি।
এদিন রাত সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার আরও নয়জনের লাশ উদ্ধারের তথ্য দেন।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ফায়ার সার্ভিস দুটি লাশ উদ্ধার করার তথ্য দেন। এর কিছু পর আরও সাতটি লাশ নদী থেকে তুলে আনেন তারা।
এর সঙ্গে দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার হওয়া আগের দুইজনের মৃতদেহ যোগ করে মোট ১১ জন নিহত হওয়ার তথ্য মিলল।
দৌলতদিয়ায় বাস তোলার সঙ্গে সঙ্গে লাশও বাড়ছে, নিহত বেড়ে ১১
দৌলতদিয়ায় ডুবে যাওয়া বাসটি তুলে আনছে 'হামজা'
চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানসহ বাসটি পদ্মায় ডুবতে দেখেন মনিরুজ্জামান
দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনার পর ঝড়-বৃষ্টি, উদ্ধারকাজ ও ফেরি ব্যাহত