Published : 26 Mar 2026, 02:13 AM
“আব্দুর রহমানের বাপ, তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। কইলো, তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে।
“কত করে কইলাম আমি যাই। আমার ডিউটি আছে। ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে, তোমরা বাড়ি থাক, বউ শুনল না।”
বুধবার সন্ধ্যার আগে আগে পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস থেকে সাঁতরে বেরিয়ে আসা এ যাত্রী দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের পন্টুনে বসে বিলাপ করছিলেন আর মোবাইল ফোনে বলছিলেন, “এখন আমার কী হবে, কেমনে বাঁচমু?”
ডুবে যাওয়া ওই বাসে ছিলেন আব্দুল আজিজ এবং তার স্ত্রী ও সন্তান আব্দুর রহমান। যাদের মত আরও অনেকেই বাস থেকে বের হতে পারেননি। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে; যাতে সলিল সমাধি ঘটে অন্তত ১৮ জনের। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ২ শিশু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসটি। হঠাৎ এটি চলতে শুরু করে। চালক তখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। এটি পন্টুন পেরিয়ে উল্টে পদ্মায় পড়ে; সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে যায় নদীতে।
ডুবন্ত বাসটি থেকে আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন সাঁতরে বের হতে পারলেও বেশির ভাগ যাত্রী আটকা পড়ে যান। ছয় ঘণ্টা চেষ্টায় পরে উদ্ধারকারী জাহাজ নদীর গভীর থেকে বাসটি টেনে তুলতে শুরু করলে একে একে লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বিকাল ৫টার দিকের এ ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর কর্মী, পুলিশ, সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কাজ শুরু করে।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছিল। কুষ্টিয়া থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাসটি পথে আরও যাত্রী তোলায় এতে ৪০ জনের বেশি লোকজন থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় আনন্দের ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রা বিষাদে পরিণত হয়েছে। অনেক হারিয়েছেন তাদের স্বজনদের। এখনও নিখোঁজের সংখ্যা কত তা স্পষ্ট নয়। কাজে যোগ দিতে বাসের বেশির ভাগ যাত্রী পরিবারের সদস্যসহ ঢাকায় ফিরছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। এতে বাধাগ্রস্ত হয় উদ্ধার কাজ। রাত সোয়া ১১টার দিকে পানির গভীর থেকে বাসটি টেনে তুলতে শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। বাসটি দৃশ্যমান হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার দুটি লাশ উদ্ধারের তথ্য দেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে একসঙ্গে আরও নয়জনের লাশ উদ্ধারের তথ্য দেন তিনি। এরপর রাত ১টার দিকে আরও চারজনের লাশ উদ্ধারের কথা বলেন।
রাত ২টার পর আরও তিনজনের লাশ উদ্ধারের তথ্য দেয় ফায়ার সার্ভিস।
প্রথমে দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুইজনের লাশ আগেই পাঠানো হয় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ২ শিশু।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
বাসটি নদীর ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, হামজার মাধ্যমে বাসটিকে তুলে আনা হয়। বৃষ্টি, বজ্রপাত আর নদীর ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।

আহাজারি
স্ত্রী-সন্তানকে পানিতে বাসের মধ্যে রেখে বের হয়ে আসা আব্দুল আজিজের মত যাত্রীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের পরিবেশ।
তার মত চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানসহ বাসটি পদ্মায় ডুবতে দেখেন কুষ্টিয়ার শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা নুরুজ্জামান।
রাত ১০টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ফেরি ঘাটে আসার পর তিনি তার চার বছরের বড় মেয়েকে নিয়ে বাস থেকে নেমে যান। স্ত্রী সাত মাসের ছেলে সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই ছিলেন। গাড়িটি তখন ফেরিতে উঠার জন্য পন্টুনে আসে।
নুরুজ্জামান বলেন, “তখনি বাসটি পন্টুন থেকে চলন্ত অবস্থায় নদীতে পড়ে যায়। ভাই, বাসে আমার স্ত্রী-সন্তান ছিল। তারা বের হতে পারেনি।”
নুরুজ্জামান স্ত্রী ও ছেলে সন্তানের খোঁজে দৌলতদিয়া ঘাটেই অবস্থান করছেন। তিনি বলছিলেন, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার ফেরার জন্য তিনি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে চড়েছিলেন। পথে বেশ কয়েকটি জায়গায় আরও যাত্রী ওঠেন।
উদ্ধারে দেরিতে ক্ষোভ, ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধার
উদ্ধার কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় ঘাটে উপস্থিত স্বজনসহ অন্যরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, ২০০ মিটার দূরে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ আসতে দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে যায়।
অপরদিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস তলিয়ে যাওয়ার পর পরই ব্যাপক ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলে সেখানে উদ্ধারকাজে দেরি হয়।
গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট যোগ দেয় পরে।
উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “এখানে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা নদী কিছুটা উত্তাল। বাসটি নদীর অনেক গভীরে। ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ সবই আছে। তবে কাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

“এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ডিসি, এসপি, প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। মানুষ কিছুটা উত্তেজিত। কারণ, মানুষজন এখনও তাদের স্বজনদের ব্যাপারে কোনো হদিশ পাচ্ছে না।”
বিকালে মেহেরপুর থেকে জে আর পরিবহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রত্যাশা নামের এক নারী। তিনি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছান রাত পৌনে ৮টার দিকে। এক ঘণ্টা ধরে তিনি ঘাটে বসে আছেন।
প্রত্যাশা বলছিলেন, “ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ফেরি ঘাট থেকে আমরা বেশ কিছুটা দূরে। আমাদের গাড়ির পেছনেও লাইন আছে। যাত্রী যারা বাইরে গিয়েছিলেন, তারা এসে বলেছেন, ফেরি নাকি চলছে না। সে কারণে অপেক্ষায় আছি।”
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা ঘাটের ডিজিএম আব্দুস সালাম রাত পৌনে ৯টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফেরি চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে।”
বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।
ছয় ঘণ্টার পর দৃশ্যমান বাস
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র মাধ্যমে তুলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাসটি নদীর ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে ছিল জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “হামজার মাধ্যমে বাসটিকে তুলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টি, বজ্রপাত আর নদীর ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই বাসটিকে উদ্ধার করা যাবে।”
বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসটির সামনে অংশ নদীর উপরে উঠে আসে। চালকের আসনের অংশটি দেখা যাচ্ছিল। বাকিটুকু পানির নিচে ছিল। বাসে হাতে থাকা ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি দেখা যাচ্ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর দফতর থেকে আরও ডুবুরি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।
গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া বাসের আরোহীদের ভাষ্যমতে, ওই বাস থেকে পাঁচ থেকে সাত যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছেন।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, পানির নিচে বাস শনাক্ত করা গেছে। বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী যান ‘হামজা’র সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।

কী ঘটেছিল
বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় পন্টুনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওই সময় কী ঘটেছিল তার কিছুটা জানা যায়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসের একজন যাত্রী আবদুস সালামের বরাতে প্রথম আলো লিখেছে, ঢাকায় আসতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে এ বাসে উঠেছিলেন। কিন্তু ঘাটে ফেরি আসতে দেরি হওয়ায় বাস থেকে নেমে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার পর রাতে দৌলতদিয়ার সৈদাল পাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালামকে ফেরিঘাটে পাওয়া যায়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সড়কে গাড়িটি দাঁড়ানো ছিল। এ সময় ফেরি এসে ঘাটে ভেড়ামাত্র হঠাৎ বাসটি চলতে শুরু করে সরাসরি নদীতে চলে যায়। চালক অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন সময় টিভি দুর্ঘটনার ওই সময়ের বর্ণনা দিয়েছে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেনের বরাতে।
আক্ষেপ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “চোখের সামনে ডুবে গেল বাসটি, কিছুই করতে পারলাম না।”
তিনি বলেন, “বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।”
স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া বাসের আরোহীদের ভাষ্যমতে, ওই বাস থেকে পাঁচ থেকে সাত যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছেন।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, “ঢাকাগামী বাসটিতে ৪০ এর অধিক যাত্রী ছিল বলে জানতে পেরেছি। হতাহতের শঙ্কা আছে। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ঘাটে এসে বাসটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ছিল। সেখান থেকে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে পাঁচ থেকে সাতজন সাঁতরে তীরে উঠে আসেন।
বাসটিতে কতজন যাত্রী ছিল- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটের কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, বাসটিতে হয়ত ৪০ জনের মত ছিলেন।
বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।