Published : 21 Apr 2026, 04:54 PM
চাঁদপুরে রাইস মিলের চুল্লি থেকে নির্গত ছাই বাতাসে উড়া ও ধানের তুষ নদীতে ফেলা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। দূষণ বন্ধে রাইস মিল মালিকদের সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে শহরের স্টেডিয়াম সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাইস মিল মালিকদের সভায় এ হুঁশিয়ারি দেন চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, নদী ও খাল দূষণ বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো অবস্থাতেই রাইস মিলের ধানের তুষ নদীতে ফেলা যাবে না।
নদীতে ছাই ও তুষ ফেলার কারণে পানির গুণগত মান নষ্টের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরন কার্যক্রমের অসংখ্য ছবি পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে রয়েছে।
সম্প্রতি রাইস মিল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৩টি মিলের মধ্যে পাঁচটি চালু রয়েছে। যেগুলোতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ছাই উড়ার বিষয়েও কঠোর সতর্কতা দিয়ে উপপরিচালক মিজানুর বলেন, ছাই উড়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। অতীতে ছাইয়ের কারণে অনেকের চোখের ক্ষতি হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তাই এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
রাইস মিল মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের সভার পর আগামী সাত দিনের মধ্যে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার অগ্রগতি আমাদের জানাতে হবে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া, অটো রাইস মিল সমিতির সভাপতি ও বিসমিল্লা রাইস মিলের মালিক আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স আজমিরী রাইস মিলের মালিক মাইনুল ইসলাম কিশোর, নিউ পূবালী অটো রাইস মিলের মালিক শিমুল সাহা, মেসার্স তপাদার অটো রাইস মিলের মালিক আমিনুল ইসলাম, খাজা বাবা অটো রাইস মিলের প্রতিনিধি আমলমীর ঢালীসহ বিভিন্ন রাইস মিলের মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাইস মিল মালিকরা বলেন, চাঁদপুরের অধিকাংশ রাইস মিল অনেক আগে স্থাপিত। সেই সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয় ছিল না। তখন পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই মিল পরিচালিত হত।
মিল থেকে কিছু ছাই উড়ার কথা স্বীকার করে মালিকরা বলেন, ছাই উড়া ও নদীতে তুষ ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ মেনে মিল পরিচালনার চেষ্টা করার কথা বলেন তারা।
রাইস মিল মালিকরা জানান, তাদের সমিতিভুক্ত মিলের সংখ্যা ১২টি। তবে ময়নামতি ও শামীমা রাইস মিল সমিতির আওতার বাইরে রয়েছে।