Published : 21 Jan 2026, 07:49 PM
যশোর-৩ আসনে কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির প্রার্থী রাশেদ খান। ভোটার হওয়ার পর তিনি কোনো সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আর তাই প্রথম ভোট নিজেকেই দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই তরুণ।
ছাত্র ইউনিয়ন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাশেদ চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যশোরের সমন্বয়ক ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খান বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক নিয়েছেন। তার প্রতীক ‘কাস্তে’।
প্রতীক পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি ২০১২ অথবা ১৩ সালে ভোটার হন। এরপর ভোট দিতে গেলে তাকে কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আর ভোট দিতে যাননি। তাই ভোটার হওয়ার পর তিনি এবার প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন এবং যেহেতু তিনি নিজেই প্রার্থী তাই ভোটটা নিজেকেই দেবেন।
এদিন যশোরের ছয়টি আসনে ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে চারজন স্বতন্ত্র; যার মধ্যে দুজন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।
তারা হলেন- যশোর-২ আসনে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও যশোর-৫ আসনে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন।
জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে গিয়েছিলেন, তবে সময় পার হয়ে যাওয়ায় তার প্রত্যাহারপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি।
ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে সমর্থন দিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, জহুরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকালে সাড়ে ৫টার পর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আসেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে তিনি প্রার্থী থাকছেন। তার প্রতীক ‘ঘোড়া’।

বিএনপির অপর বিদ্রোহী প্রার্থী যশোর-৫ আসনের শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ‘কলস’ প্রতীক।
এদিন বেলা ১১টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ছয়টি আসনের প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আশা করছি নির্বাচন পর্যন্ত এ পরিবেশ বজায় থাকবে।”