‘ওরশ মাহফিল বাতিলের পাঁয়তারা হলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে’
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের চক বনপাথালিয়া গ্রামে শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (রহঃ) দরবার শরিফে পাঁচ দশক ধরে ওরশ মাহফিল হচ্ছে।
বাৎসরিক ওরশ মাহফিল বন্ধের পাঁয়তারা ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ময়মনসিংহের একটি মাজারের ভক্ত-আশেকানরা।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের চক বনপাথালিয়া গ্রামে শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (রহঃ) দরবার শরিফের সামনে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে বাংলাদেশ সুফিবাদ ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি পীরবাবা খলিলুর রহমান চিশতীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম চিশতী, অর্থ সম্পাদক মাসুদ ভুইয়া চিশতী, মাজার কমিটির সভাপতি নওশের আলী ফকির, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রধান খাদেম আব্দুল মান্নান, দ্বিতীয় খাদেম তালেব মীর।
এই মাজার শরিফে পাঁচ দশক ধরে ওরশ মাহফিল হয়ে আসছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ উপমহাদেশে ১৬০ জন আউলিয়া ইসলাম প্রচার করার জন্য এসেছেন। তাদের জন্যই ইসলাম এত প্রসার লাভ করেছে এখানে। কিন্তু এখন বিভিন্ন মাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে, মাজারের সম্পদ লুট করে মাজার ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তারা বলেন, এতদিন ধরে ওরশ পালিত হলেও কোনোদিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এখন কিছু ইসলামের শত্রু এর বিরুদ্ধে লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, “আমরা ছোট থেকে এ মাজার শরিফ দেখে আসছি। এখানে কোনো ধরনের খারাপ কাজ হতে দেখিনি। অনেক দূর থেকে ভক্তরা আসেন, কাফেলা করে চলে যান।”
মাজারের ভক্ত সাদেকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সঠিক পথে আছি। প্রতিবছর এ ওরশ মাহফিলে হাজার হাজার ভক্ত ও এলাকার লোকজন এখানে সমবেত হন। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না এখানে খারাপ কিছু হয় বা হয়েছে। এ ওরশ বানচাল করার জন্য যদি কেউ পাঁয়তারা করে এলাকাবাসীসহ হাজারো ভক্ত কঠিন জবাব দেবে।”
৮ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে একদল মাদ্রাসা ছাত্র থানার সামনের ২০০ বছরের পুরনো হযরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ (রহ) মাজারের বার্ষিক ওরশ শরিফ ও সামা কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় নিরাপদে সরে গিয়ে শিল্পীরা রক্ষা পান।
এরপর রাত ৩টার দিকে আবার এসে তারা মাজারটিকে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় মাজারের এক ভক্ত মামলা করেছেন।
এ ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আউলিয়া বাজারে হযরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (রাঃ) দরবার শরিফে ওরশ মাহফিল উদযাপন নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে ভক্ত-আশেকানদের মধ্যে।
তারা জানান, শুক্রবার বিকালেও স্থানীয় ভাবখালী বাজারে ওরশ বন্ধের দাবিতে ইত্তেফাকুল উলামা, ভাবখালী ঐক্য উলামা পরিষদ ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসুল্লির ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। ওরশ মাহফিল বন্ধের জন্য থানায় অভিযোগও দেওয়া হয় ইত্তেফাকুল উলামার পক্ষ থেকে।
যদিও ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “ওরশকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে দুই পক্ষকে নিয়ে রোববার থানায় আলোচনায় বসা হয়। হুজুরদের দাবি ছিল, গান-বাজনা, জুয়া না হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
“গান-বাজনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ করবে না মাজারের লোকজন এই প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের নজরদারি রাখা হবে।”
