Published : 20 Jun 2024, 07:07 PM
গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের নেমে আসা পানিতে গাইবান্ধায় সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। জেলার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৪১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
অপরদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারি, ঘাগোয়া ও ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করছে।
এছাড়া নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরের মোল্লার চর ও ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, “উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।”
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আল হাসান বলেন, এর মধ্যে জেলা ও উপজেলায় দুর্যোগকালীন সভা করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সদরে নদীবেষ্টিত যে চারটি ইউনিয়ন রয়েছে সেই সব ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওসব এলাকায় শুকনা খাবার বিতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।