১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুয়েটে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকরা অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থেকে সরবেন না বলে জানান।

কুয়েটে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা।

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Apr 2025, 07:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:33 PM

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে এবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েট এর উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকাল ৪টার দিকে একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে অনশনে বসেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার।

এর আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা এম এ রশীদ হলের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। সেখান থেকে তারা তোশক, বালিশ ও বিছানার চাদর নিয়ে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে গিয়ে বসে পড়েন।

অবশ্য সেখানে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ অনেক শিক্ষক অবস্থান করছিলেন।

এ সময় শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন থেকে সরবেন না বলে জানিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়; এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়। রাতে খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে প্রশাসন।

২০ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সব রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনকে ‘লাল কার্ড’ দেখান শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা খুলনা থেকে ঢাকায় এসে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন। এতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৯৯তম (জরুরি) সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করাসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি ১৩ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরে ১৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায় ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

সেইসঙ্গে আগামী ২ মে থেকে সব আবাসিক হল শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া ও ৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবির ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর কুয়েটে ছেলেদের ছয়টি হলের তালা ভেঙে ভেতরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ মিছিলের পরপর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিপক্ষে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদের অপসারণের দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার বিকালে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রতীকী গদিতে আগুন জ্বালানোর কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কুয়েট উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি: এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুয়েটে সংঘর্ষ: ৩৭ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, হল খুলবে ২ মে

৩৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার: কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

কুয়েট ঘিরে আবার উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন