১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৩৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার: কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রায় দুই মাস পর কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৩৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার: কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ
রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ থেকে কুয়েট শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Apr 2025, 07:36 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:39 PM

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীদের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের সমাবেশে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটি ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, কিন্তু কুয়েটের ঘটনায় মনে হচ্ছে আমরা আবারও একটি ফ্যাসিবাদের দেশ পেয়েছি।

“কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত বিএনপি যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এরপরও কুয়েটের প্রশাসন অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পারেনি। অথচ যারা মার খেয়েছে তাদেরই আসামি করে মামলা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন,  কুয়েটের উপাচার্য বিএনপির জিয়া পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা। শিক্ষার্থীদের মারধর ও মামলা বিএনপির মদদে হয়েছে। আমরা কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে অতি দ্রুত সরে আসতে হবে।

“শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ ঠেকাতে হল বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই। কুয়েট শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। অবিলম্বে দালাল ভিসি মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগ দাবি করছি।”

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।ওই ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ থেকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা যখন হামলা করেছিল, তখন শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেনাবাহিনী যখন ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছিল তখন দালাল ভিসি সেনাবাহিনীকে অনুমতি দেয়নি।

“শিক্ষার্থীদের ওপর যে মামলা করা হয়েছে তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহি করতে হবে, কেন তারা এই মামলা গ্রহণ করল। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে, যারা হামলায় জড়িত ছিল তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

কুয়েট শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরাও। তারা বহিষ্কারের আদেশ ও  শিক্ষার্থীদের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন-

৩৭ কুয়েট শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি বুয়েট শিক্ষার

কুয়েটে শিক্ষার্থী বহিষ্কার: উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি গণতান্ত্রিক

কুয়েটে সংঘর্ষ: ৩৭ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, হল খুলবে ২ মে