Published : 16 Nov 2025, 07:47 PM
‘জঞ্জালের মত লাগে’ বলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে লাগানো অর্ধশত বকুলগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মামলায় রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম।
এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার বেলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কারাগারে যাওয়া মো. আজমির হোসেন (৩৭) উপজেলার সাওড়াতলী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি বেলতলী এলাকায় নবনির্মিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালের ফটকের পাশে থাকেন। সেখানে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন।
পুলিশ জানায়, সওজের উদ্যোগে বকুলগাছগুলো মহাসড়কে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছিল। কেটে ফেলা প্রতিটি গাছের বয়স ছিল ৯ বছরের বেশি।
এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি করেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বেলতলীতে হাসপাতালের সামনেই একসঙ্গে ১৭টি বকুলগাছ কাটা হয়েছে। অন্য গাছগুলো আশপাশে কাটা হয়েছে।

রোববার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “এ ঘটনায় শনিবার রাতে আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে আজমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কেটে ফেলা গাছগুলোর স্থানে নতুন করে গাছের চারা রোপণ করা হবে।
২০১৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তর করার পর সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে অন্য লেনের গাড়ির ওপর না পড়ে, সেজন্য বিভাজকের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়।

দাউদকান্দি উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত প্রায় ১৯২ কিলোমিটার এলাকায় মধ্যে মহাসড়কের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এর মধ্যে বকুল, কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, পলাশসহ নানা ফুলের গাছ আছে। এ রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি।
এ ছাড়া সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে বিভাজকের ওপর লাগানো আছে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমণি, নিম, একাশিয়া, হরীতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ হাজারের বেশি গাছ। এর মধ্যে বেলতলী এলাকাটি বকুলগাছে সাজানো ছিল।