Published : 25 Jan 2026, 09:51 PM
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০জন আহত হয়েছেন।
রোববার বিকাল ৫টা থেকে বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রাত সাড়ে ৯ টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করছিলেন তার সমর্থকরা।
এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। তাদের হামলায় অপু নামে এক মোর্শেদ আলমের কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আদি খান শাকিলের অফিসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান আগুনের ঘটনায় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে চারপাশ। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এর ফলে কার্যত পুরো ভালুকা ‘শাটডাউন’ অবস্থায় রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, বাটাজোড় বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর এভাবে হামলা হলে সাধারণ ভোটাররা কতটা নিরাপদ?”
চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে থেমে থেমে এখনো সংঘর্ষ চলছে। বর্তমানে পুরো ভালুকা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এছাড়া আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।