Published : 21 Dec 2025, 09:12 PM
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে ‘তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে’ আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠলেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি পুলিশের।
শুক্রবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের ঘরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান বেলাল হোসেনের মেয়ে আয়েশা আক্তার (৮)। এছাড়া বেলালসহ তার দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৭) ও বিথি আক্তার দগ্ধ (১৪) হয়।
এরমধ্যে স্মৃতি জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ আরেক মেয়ে বিথির শরীরের ২ শতাংশ পুড়েছে।
দগ্ধ বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঢাকায় হাসপাতালে দগ্ধ দুই মেয়েকে দেখতে যান।
সেখান থেকে বের হয়ে তারা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে বেলালের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান জানিয়েছেন।
দুর্বৃত্তায়ন-মবের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
এদিকে শুক্রবার মধ্যরাতে বাহির থেকে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ তুললেও পুলিশ বলছে দুর্বৃত্তায়ন-মবের প্রমাণ পায়নি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ঘরের দরজায় তালা লাগানোর প্রমাণও পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। কাউকে আটক করাও সম্ভব হয়নি। আমরা পরিবারকে মামলা করতে বলেছি। ঘটনাটি তদন্ত চলছে।”
পুলিশের এমন দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেলাল হোসেন রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দরজায় তালা দিয়ে আমার ঘরে আগুন দিয়েছে। ১ মিনিটের মধ্যে আগুনে চারপাশ ঘিরে গেছে, ৫ মিনিটের মধ্যে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দরজায় তালা, পেট্টল ব্যবহার না করা হলে আমার মেয়ে, আমি ছোটাছুটি করতে হয়েছে কেন? ঘরের টিন ভেঙ্গে বের হতে হয়েছে কেন?”
“পুলিশ না জেনে মন্তব্য করলে সেটাও আইনের আওতায় আনবো”, বলেন তিনি।
বাড়িতে দোয়া-মিলাদ
অন্যদিকে রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই বাড়িতে নিহত আয়েশার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও অসুস্থদের জন্য দোয়া-মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে এলাকার লোকজন অংশ নেয়।
বেলালের শ্যালক মো. শুভ বলেন, “আমার বড় ভাগনি স্মৃতির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।”
স্থানীয় ফাইভ স্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নোমান সিদ্দিকী বলেন, “দগ্ধ বিথি ও নিহত আয়েশা আমার স্কুলের শিক্ষার্থী। শুক্রবার রাত ১০টার দিকেও বিথিসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য কার্যক্রম বুঝিয়ে দিয়েছি। তখন বিথির সঙ্গে আয়েশাকেও দেখেছি।
“কিন্তু ২ ঘণ্টা পরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ঘটনাটি মর্মান্তিক।”
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, “ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। এ ধরণের ঘটনা আমার ইউনিয়নে আর ঘটেনি। দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
আগের সংবাদ
লক্ষ্মীপুরে তালা লাগিয়ে বিএনপি নেতার বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, শিশুর মৃত্যু