Published : 16 Aug 2025, 10:02 PM
রাজশাহীতে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর পর স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন গৃহকর্তা মিনারুল ছিলেন চাপা স্বভাবের, মানুষের সঙ্গে মিশতেন কম আর অভাব-অনটনের কথাও কাউকে বলতেন না।
মিনারুল ইসলাম (৩৫) জেলার মতিহার থানার বামনশিকড় গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার তার বাড়ির দুইটি কক্ষ থেকে মিনারুলসহ পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ, স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রাথমিক ধারণা, ঋণের বোঝা আর কিস্তির চাপের কারণেই স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৪) এবং মেয়ে মিথিলাকে (৩) হত্যার পর মিনারুল আত্মহত্যা করেছেন।
এই ঘটনার একদিন পর শনিবারেও সকাল থেকে মিনারুলের বাড়িতে ভিড় জমান আশপাশের মানুষ।
মিনারুলের মা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা চাপা ছিল। কোনো দিন আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলেনি।”
নিহতের ছোট বোন নাজমা খাতুন বলেন, তাদের ধারণা মিনারুল এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন, তা পরিবার জানত না।
প্রতিবেশী মোক্তার হোসেন বলেন, “অভাব-অনটনে জর্জরিত ছিল মিনারুল। কিন্তু কাউকে কিছু বলত না। চুপচাপ সব সহ্য করত।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে মিনারুল তার কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দিতে পারেননি বলে আফসোসের কথাও জানান তিনি।
গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, “এনজিওর লোকেরা টাকা না পেলে মিনারুলের বাড়িতে বসে থাকত। রাত পর্যন্ত বসে থাকত। এতে মিনারুল লজ্জা পেত, বিব্রত হতো। মান-সম্মানের চাপে হয়তো সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে চারজনের মরদেহ।
পরে মিনারুল ও তার ছেলে মাহিমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তবে মিনারুলের শাশুড়ি শিউলি বেগম তার মেয়ে মনিরা ও নাতনি মিথিলার মরদেহ শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় গোরস্তানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নগরের মতিহার থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। অন্যদিকে শাশুড়ি শিউলি বেগম মিনারুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
মতিহার থানার ওসি আবদুল মালেক বলেন, মামলা দুটির আসামি অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরানো খবর
রাজশাহীতে বসতঘরে স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ, পাশে চিঠি
রাজশাহীতে ৪ মৃত্যু: 'আমরা মরে গেলাম ঋণের বোঝা আর খাওয়ার অভাবে'
রাজশাহীর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ, পাশে ছিল চিরকুট